আজ গজারিয়া গণহত্যা দিবস।
১৯৭১ সালের এই দিনে পাকবাহিনীর হাতে নিহত হয়েছিল ৩৬০ গ্রামবাসী-মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতার ৪৭ পরও গণহত্যার শিকার এ ৩৬০ শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি মেলেনি। অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে তাদের গণকবরগুলো।
স্বজন হারানো পরিবারগুলো আজও ভুলতে পারেনি তাদের সেদিনে কথা। শহীদের স্মৃতি বুকে নিয়ে পার করছেন একেকটি বছর। তারপরেও আশায় আছেন কোন এক সময় হয়তো মিলবে সেই কাঙ্খিত শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি।
আজ গণহত্যা দিবসে শহীদদের কবরে ফুল দেয়া ও আলোচনা সভা হবে গজারিয়া ইউপি পরিষদ মিলনায়তনে। পরিবারগুলো শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি না পাওয়ায় তাদের আক্ষেপের শেষ নেই। অন্তত শেখ হাসিনার সরকারের আমলে এমন হবে তা তারা ভাবতে পারছেন না।
জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ৯ মে গজারিয়া উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মেঘনা নদী তীরবর্তী নয়ানগর, গোসাইচর, কাজীপুরা, বাঁশগাঁও, বালুরচর গ্রামে পাক হানাদার বাহিনী আক্রমণ করে। সকালের আলো ফুটতেই কেউ নামাজে আবার কেউ বা জীবিকার সন্ধানে বেরিয়েছিলেন বাড়ি থেকে। তারা সকলে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তাদের আর ঘরে ফেরা হয়নি। লাশ হয়ে পড়ে থাকতে হয়েছে স্থানীয় ফুলদী নদীর তীরে।
সেদিন গুলি খেয়ে কেউ এখনও বেঁচে আছেন দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে। তবে যাদের স্বজন হারিয়েছে তারা আজও দুঃখ আর কষ্টে দীনযাপন করছে। তাদের আশা ছিলো বর্তমান সরকার তাদের সেই কাঙ্খিত শহীদ পরিবারে স্বীকৃতি দিয়ে পাশে দাঁড়াবে। কিন্তু তা যেন সময়ের সাথে সাথে মিলিয়ে যাচ্ছে মাটির সাথে। শহীদ পরিবারে স্বীকৃতি তো দুরের কথা গণহত্যার শিকার শহীদদের কবরগুলোও পড়ে আছে অযত্নে-অবহেলায়। সরকারীভাবে সংস্কার না থাকায় জঙ্গলে পরিণত হয়েছে এসব কবর।
প্রতিবছর ৯ মে পরিবারে পক্ষ থেকে নিজেদের উদ্যোগে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হলেও আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। ১৯৭২ সালে শহীদ পরিবারগুলোর মাঝে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান দুই হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছিলেন। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত অনেকবার সরকার পাল্টেছে কিন্তু তাদের ভাগ্যের পরির্বতন হয়নি।
শহীদ পরিবারদের কথা চিন্তা করে স্থানীয় মোঃ শাহজালাল বেপারী ৪৭ বছর ধরে শহীদ পরিবারগুলোকে স্বীকৃতি এনে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন। সাপ্তাহে ১ বার করে পরিবারগুলোর খোঁজ খবর নেন। মাঝে মাঝে নিজের পকেট থেকে নগদ অর্থও দান করেন। তিনি ছেলের চিকিৎসার অর্থ দিয়ে গজারিয়া ইউনিয়ন শহীদ পরিবার কল্যান পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। শহীদ পরিবারগুলোকে সরকারী অনুদান এনে দিতেও কঠোর পরিশ্রম করেন শাহজালাল।
গণহত্যায় শহীদ ৩৬০ জনের গণকবরগুলো চিহ্নিত করা। শহীদ পরিবারের সদস্যরা যারা বেঁচে আছেন তাদেরকে খোঁজ খবর নিয়ে সরকারীভাবে তাদেরকে সকল সুযোগ সুবিধা দিবে সরকার- এমনটাই প্রত্যাশা শহীদ পরিবারগুলোর।
গজারিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদ্য সাবেক কমান্ডার নজরুল ইসলাম জানান, কোন প্রকার পরিস্কার নীতিমালা না থাকায় এ পরিবারগুলোকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের স্বীকৃতি দেবার উদ্যোগ নিতে পারিনি।
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনিম জেবিন বিনতে শেখ জানান, বুধবার গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদে আলোচনা সভা ও শহীদদের কবরে ফুল দিয়ে দিবসটি পালন করা হবে। শহীদ পরিবারের স্বীকৃতির বিষয়ে তিনি বলেন, আমি এখন অল্প দিন হলো যোগদান করেছি। তবে বুধবারের আলোচনা সভায় শহীদ পরিবারের সাথে কথা বলবো। তাছাড়া এ বিষয়ে কেউ যদি আমাকে লিখিত দেয় তবে তাদের স্বীকৃতির ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
ইত্তেফাক/নূহু