শক্তিমান সহ ৫ হত্যা: ১১৮ জনের নামে দুটি অভিযোগ

ছয়দিন পর নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা ও গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা সহ ৪ নেতা হত্যা মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করে দুটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে নানিয়ারচর থানায় গত ৩ মে শক্তিমান চাকমা হত্যার ঘটনায় তার সহকারী রূপম চাকমা ও ৪ মে তপন জ্যোতি চাকমা হত্যার ঘটনায় তার আত্মীয় অচিন চাকমা বাদী হয়ে অভিযোগ দুটি দায়ের করেছেন।
 
রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের সাতদিনের মাথায় শক্তিমান চাকমার হত্যা ঘটনায় নিহত শক্তিমানের সহকারী আহত রূপম চাকমা বাদী হয়ে ৪৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মা সহ অপর ৪ জন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তপন জ্যোতি চাকমা বর্মার আত্মীয় অচিন চাকমা বাদী হয়ে ৭২ জনের নাম উল্লেখ করে নানিয়ারচর থানায় দুটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান অভিযোগ পাওয়ার তা যাচাই বাছাই করে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হবে।
 
এদিকে রাঙ্গামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলায় বিশেষ অভিযানে পুলিশ বাঘাইছড়ি উপজেলা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির উপজেলা সভাপতি প্রভাত কুমার চাকমা ও ইউপিডিএফ সমর্থিত সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান নেলসন চাকমাকে আটক করা হয়েছে। বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিন হোসেন এই সত্যতা স্বীকার করেন।
 
উল্লেখ্য, গত ৩ মে  আততায়ীর গুলিতে নিহত হন রাঙ্গামাটির নানিয়াচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা। এর পরদিনই গুপ্ত হামলার শিকার হয়ে নিহত হন ‘ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক’ দলের প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মাসহ ৪ পাহাড়ি ও ১ বাঙালি গাড়ি চালক। তারা প্রয়াত শক্তিমান চাকমার শ্মশানযাত্রী ছিলেন। খাগড়াছড়ি থেকে একটি মাইক্রোবাস করে নানিয়ারচর আসার পথে  তার আগে থেকে ওত পেতে থাকা অস্ত্রধারীরা তাদের ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে। এ ঘটনার পর পাহাড়ের মানুষের মনে ভর করছে নানা শঙ্কা, ভয় ও আতঙ্ক।
 
ইত্তেফাক/এসএস