রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী মুকুল হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী পলাতক জঙ্গি শরিফুল ইসলাম ভারতে আত্মগোপন করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার অধ্যাপক রেজাউল হত্যা মামলার রায়ে শরিফুল ইসলামের ফাঁসির আদেশের পর পুলিশ ও তার পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের কাছে এমন ধারণা প্রকাশ করেন।
তবে হত্যাকাণ্ডের দুই বছর অতিবাহিত হলেও মূল পরিকল্পনাকারী জঙ্গি শরিফুলকে খুঁজে পায়নি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল মঙ্গলবার অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যায় অভিযুক্ত আট আসামির মধ্যে পাঁচজনের রায় ঘোষণা করে রাজশাহী বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে শরিফুলসহ দুই জঙ্গির ফাঁসি ও আশ্রয়দাতাসহ তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালতের বিচারক শিরীন কবিতা আখতার।
পুলিশের ধারণা, ভারতের শীর্ষ জঙ্গি মুসার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বাংলাদেশি জঙ্গি শরিফুলের। সেই সূত্র ধরে ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নিতে পারে শরিফুল। সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র। শরিফুলের বাড়ি রাজশাহী বাগমারা উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে।
২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল সকালে রাজশাহী নগরীর শালবাগান এলাকায় নিজের বাড়ির কাছে কুপিয়ে হত্যা করা হয় অধ্যাপক রেজাউল করিমকে।পরদিন নিহতের ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ সৌরভ অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে বোয়ালিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৭ সালের ৬ নভেম্বর আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক রেজাউস সাদিক। তবে অভিযুক্ত আট আসামির তিনজন পুলিশের অভিযানের সময় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এরা হচ্ছে, গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে নিহত খায়রুল ইসলাম ওরফে বাঁধন, ঢাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত তারেক হাসান ওরফে নিলু ওরফে ওসমান এবং রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ খড়খড়ি এলাকায় ডিবি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত নজরুল ইসলাম ওরফে হাসান ওরফে বাইক হাসান।
সাজাপ্রাপ্ত অপর পাঁচ আসামিরা হচ্ছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র শরিফুল ইসলাম, ক্রপ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী রহমতুল্লাহ ওরফে শাহিন, নগরীর খড়খড়ি বাইপাস এলাকার আবদুস সাত্তার ও তার ছেলে খায়রুল ইসলাম ওরফে রিপন আলী এবং বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মাসকাওয়াত হোসেন সাকিব। এদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম পলাতক।
সূত্র মতে, পলাতক জঙ্গি শরিফুলকে ধরতে তৎপর রয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। আইএসের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এবং আইএসের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে শরিফুল। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আটক আইএস জঙ্গি মো. মসিউদ্দীন ওরফে মুসার সঙ্গে বাংলাদেশের শরিফুল ইসলামের সম্পৃক্ততা পেয়েছে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। শরিফুলের সঙ্গে জঙ্গি মুসার সরাসরি টেলিফোনে ও সামাজিক মাধ্যমে যোগাযোগ ছিল। তারা বড় ধরণের ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা করছে।
শরিফুল, মুসাকে কলকাতাসহ ভারতের কয়েকটি স্থানে বিদেশি হত্যা, জনবহুল স্থানে বিশেষ করে হিন্দু জনগোষ্ঠীর উপর আক্রমণ চালানোর নির্দেশ দেয় বলে জানা যায়। ভারতের তদন্ত সংস্থা শরিফুল ও মুসার অনেক তথ্য, কথোপকথন, সামাজিক যোগাযোগের প্রমাণ অনুসন্ধান করছে। এনআইএ এর দাবি, শরিফুল ২০১৫ ও ২০১৬ সালে অন্তত তিনবার ভারত সফর করেছে। শরিফুল দুটি মোবাইলে আইএসের সঙ্গে যোগাযোগ করে। মোবাইল দুটি অন্য কারও নামে রেজিস্ট্রেশন করা। এছাড়া মুসার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হয় ফেসবুক, স্কাইপ, টেলিগ্রাম, থ্রিমা প্রভৃতি ব্যবহার করে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মাহাবুবর রহমান বলেন, জঙ্গি শরিফুল কোথায় আছে, তার খোঁজ রাখছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। তাকে ধরার চেষ্টা চলছে। আশা করছি তাকে খুব দ্রুত আটক করা সম্ভব হবে।
ইত্তেফাক/এসএস