কক্সবাজারের টেকনাফে রান্নার সময় গ্যাসের আগুনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনটি বসত-বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এসময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে এক বৃদ্ধা ও শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে দগ্ধ হয়েছেন ছয়জন। আজ বুধবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, আজ ভোরে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জর পাড়ার আব্দুস শুক্কুরের রান্না ঘরে এক শিশু গ্যাস সিলিন্ডারের সুইচ অন করে। গ্যাস সিলিন্ডারের চাপ বেশি হওয়ায় পার্শ্ববর্তী পলিথিনে আগুন লেগে ঘটনার সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার হৈ-ছৈ শুনে লোকজন জড়ো হওয়ার আগেই গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আগুন পার্শ্ববর্তী খাইরুল বশর ও বদিউজ্জামানের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে বাতাস ও আগুনের গতি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপস্থিত লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। ফায়ার সার্ভিস আসার পূর্বেই বসত-বাড়ি তিনটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে নগদ টাকা, আসবাবপত্র ও ধান-চালসহ ২২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এসময় বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা আব্দসু শুক্কুরের শাশুড়ি এলেনা খাতুন (৯০) আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু বরণ করেন। এদিকে ঘুম থেকে জেগে পরিবারের সদস্যদের রক্ষা এবং আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাতে গিয়েই খাইরুল বশর, বদিউজ্জামান, ফাতেমা, বসরী, রোমা, রুনা ও সুমাইয়া অগ্নিদগ্ধ ও আহত হয়। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হলেও চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোমা (৪) মৃত্যুবরণ করে।
অগ্নিকাণ্ডে নিহত ও ক্ষতির খবর পেয়ে টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল হাসান, হোয়াইক্যং মডেল ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী, স্থানীয় মেম্বার আব্দুল গাফ্ফার ও পুলিশ ফাঁড়ির আইসিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় উপজেলার নির্বাহী অফিসার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের খোজ খবর নেন এবং ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রতি পরিবারকে ১ হাজার টাকা করে অনুদান দেন। তিনি ঊর্ধ্বতন মহলের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসমূহকে পুনর্বাসনের আশ্বাস দেন। এদিকে নিহত শিশু রোমাকে বাদে জোহর স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/এসএস