নগরীর জিন্দাবাজারস্থ জেলা প্রেসক্লাবের সামনে বুধবার বিড়ি শিল্প বন্ধ না করা এবং বিড়ি ও সিগারেটের মধ্যে বৈষম্য দূর করার দাবিতে ব্যবসায়ী ও ভোক্তা সাধারণের উদ্যোগে এক মানববন্ধন পালতি হয়ছে। মানববন্ধন শেষে প্রেসক্লাব বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সিলেট অঞ্চলে বিড়ি শিল্পের সঙ্গে জড়িত কয়েক হাজার পরিবার। এ শিল্প বন্ধ হলে তারা বেকার হয়ে যাবে। তাদের পরিবার অসহায় হয়ে পড়বে। তাই এ শিল্প বন্ধ না করতে উর্ধ্বতন মহলের সহযোগীতা কামনা করা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, অর্থমন্ত্রী দুই বছরের মধ্যে বিড়ি শিল্পকে বন্ধ করতে ও সিগারেট শিল্পকে ২২ বছরের মধ্যে বন্ধ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি ভারত এবং মিয়ানমারের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। কিন্তু পাশাপাশি তিনি বিট্রিশ আমেরিকা টোব্যাকো কোম্পানীকে সুযোগ করে দেন। এর বৈষম্য নিয়ে আমরা হতাশ। পাশাপাশি প্রাক বাজেট আলোচনায় এনআরবি চেয়ারম্যান সিগারেট বন্ধ করা যাবে না বলে আলোচনা করেন। তাহলে বলা চলে বিট্রিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানীকেও সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। ভারত যেখানে বিড়ি শিল্পকে কুটির শিল্প হিসেবে ঘোষণা করেছে পাশাপাশি প্রতি হাজার বিড়ি ট্যাক্স নিচ্ছে ১৪ টাকা, ২০ লক্ষ শলাকার নিচে বিড়ি উৎপাদন হলে ট্যাক্স নেওয়া হয় না।
স্মারকলিপিতে অর্থমন্ত্রী ও এনআরবি চেয়ারম্যানের নিকট প্রার্থনা জানিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশের বিড়ি শিল্প বন্ধ হলে ভারতের বিড়ি এদেশে প্রবেশ বন্ধ হবে কি? যদি তাই না হয় তাহলে শ্রমঘন এদেশের বিড়ি শিল্প বন্ধ করে অসহায় শ্রমিক চাকরিজীবি এদের বঞ্চিত না করার দিকে দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। বিড়ি শিল্পকে বন্ধ করলে এ শিল্পে কর্মরত হাজার হাজার কর্মকর্তা কর্মচারী তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে দিনযাপন করবে। তাই তাদের কর্মসংস্থানের বিকল্প ব্যবস্থা না করে এই শিল্পের উপর অতিরিক্ত ট্যাক্স বসানো না হয় তার জন্য অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন শাহজাহান মাস্টার, জাবেদ আহমদ, রাজীব, রাজু, গণেশ, রুবেল, গোপাল, নুরুল, ইমন, আবদার, সাদেক, সবুজ, আল আমিন, বাবু, গোপাল, জাহিদ, বিল্লালসহ বিপুলসংখ্যক সিলেট অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও ভোক্তা সাধারণ।
ইত্তেফাক/নূহু