ফুলবাড়ীয়া উপজেলা ডিসপেন্সারি নিজেই রোগী


পুরানো টিন সেডের চৌচালা ঘর, ফুটো হয়ে গেছে অনেক আগেই, বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে ভিতরে, সাইন বোর্ডটি এতই পুরানো তারও রঙ উঠে গেছে, সামনে মাঠ বৃষ্টি হলেই জমে হাঁটু পানি, দুর্গন্ধ ছড়ায় এতে ডাক্তার রোগীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। এ চিত্র ফুলবাড়ীয়া উপজেলা সদরের উপজেলা ডিসপেন্সসারীর।

পানি ও ময়লা আবর্জনার স্তূপ দূর থেকে রোগীরা দেখে বিশ্বাস করেই না এখানে দেয়া হয় চিকিত্সা সেবা। তারপরও বছরের পর বছর চলছে এভাবেই।

উপজেলা ডিসপেন্সারীর সামনে রয়েছে খোলা মাঠ। সেখানে শুকনো মৌসুমে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ভিড় ও দেশি-বিদেশি বৃক্ষের হাট বসে। এখানে সীমানা প্রাচীর অথবা কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় প্রতিদিন বিভিন্ন পণ্য বোঝাই ট্রাক পণ্য খালাস করার জন্য এই স্থানটিকে নিরাপদ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।

বর্তমান এ জায়গাটি এতই নাজুক হয়ে পড়েছে যে, বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটু পানি জমে রয়েছে। সব সময়ই দেখা যায় মাঠের পাশে ইট, মাটি, বালু, সিমেন্টের খুঁটি ইত্যাদি সামগ্রী রেখে দখল করে রেখেছে কিছু সুবিধাবাদী ব্যবসায়ীরা। এখানে মাটি বালু পড়ে থাকলেও নিচু জায়গাটিতে এক মুঠো মাটি বা বালু বরাদ্দ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রতিদিন পৌর শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে পঁচা ও দুর্গন্ধ ময়লা আবর্জনা ডিসেন্সারীর সামনে ফেলা হচ্ছে। ডিসপেন্সারীর ভিতরে এবং বাইরের পরিবেশ এত জরাজীর্ণ হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাথা ব্যথা নেই।

স্থানীয়রা জানান, চিকিত্সা সেবার পূর্বশর্ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা। কিন্তু এখানে দেখা যায় তার ব্যতিক্রম। ডিসপেন্সারীর এমনই করুণ দশা যে, নিজেরই চিকিত্সা প্রয়োজন। এখানে চিকিত্সা সেবা নিয়েও রোগীদের বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। ফলে দিন দিন রোগীরা ডিসপেন্সারী হতে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। তাই চিকিত্সা সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ বলেন, ডিসপেন্সারীর সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।

উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ রাজিয়া আক্তারকে ডিসপেন্সারীর সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দোহাই দিয়ে পাশ কাটিয়ে যান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এ.কে.এম ছিদ্দিকুর রহমান জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ডিসপেন্সারীর জরাজীর্ণ অবস্থার কথা জানিয়েছি বিষয়টি সকলেই অবহিত আছেন।

বিগত সময়ে সরকারি দলের প্রয়াত স্বাস্থ্য উপ-মন্ত্রী সিরাজুল হক ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) মুজিবুর রহমান ফকির ডিসপেন্সারীটি পরিদর্শন করেছেন।

ইত্তেফাক/নূহু