শিবপুর উপজেলায় এবার লটকনের বাম্পার ফলন হয়েছে। সঠিক সময়ে লটকন বাগানের পরিচর্চা করার কারণে এবং সময় মত বৃষ্টি হওয়ায় এবার লটকনের বাম্পার ফলন হয়। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২শত হেক্টর জমিতে লটকনের বাগান রয়েছে। চারা রোপণ করার ৫/৬ বছরের মধ্যে ফলন আসতে শুরু করে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় পাইকাররা ছোট বড় বাগানে গিয়ে এক মাস আগেই গাছে থাকা কাঁচা লটকন প্রতি মণ ১ হাজার থেকে ১৫শত টাকায় ক্রয় করেন। জুলাই মাসে প্রথম দিক থেকে লটকন বিক্রি
করবে বলে জানায়।
নরসিংদী জেলার ৫টি উপজেলার মধ্যে শিবপুর উপজেলায় লটকনের ফলন বেশি হয়ে থাকে। দুই যুগ আগেও এই ফলটির কদর ছিল না। পুষ্টিকর ও সুস্বাধু হওয়ায় দিন দিন রসালো এই ফলটির দেশে ও বিদেশে চাহিদা বেড়ে যায়। তাই দেশের চাহিদা মিটিয়ে ইউরোপসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হচ্ছে।
ঢাকা-সিলেট মহা-সড়কের পাশে প্রতিদিন চৈতন্য, কামারটেক, গাবতলী ও রায়পুরা উপজেলার মরজাল বাজারে লটকনের হাট বসে। এসব বাজার থেকে শুরু করে ঢাকার কাওরান বাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকাররা লটকন কিনে নিয়ে যান।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. মাসুদ মিয়া বলেন, আমি ১০ লাখ টাকা দিয়ে ৫টি লটকন বাগান কিনেছি। ২ মাসে আমার ১ লাখ টাকা খরচ হবে। সকল খরচ বাদ দিয়ে আমার ৪ লাখ টাকা আয় হবে।
উপজেলার জয়নগর, যোশর, বাঘাব, চক্রধা এই সব ইউনিয়নে লাল মাটির অসংখ্য ছোট বড় টিলা পাহাড়
রয়েছে। লাল মাটি ও ছায়াযুক্ত টিলা পাহাড়ে লটকনের ব্যাপক ফলন হয়। এবার গত বছরের তুলনায় ফলন ভাল হওয়ায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি করেছেন বাগান মালিকরা।
জয়নগরের রিয়াজ উদ্দিন বলেন, এক সময় এই পাহাড়ি এলাকায় কাঁঠালের ব্যাপক ফলন হতো, বর্তমানে অনেকে কাঁঠাল বাগান বাদ দিয়ে, লটকন বাগান করছেন। উপজেলায় চারটি ইউনিয়নে সকলের বাড়িতে কম বেশি লটকনের চাষ করা হয়ে থাকে। লটকন বাগানে খুব একটা বেশি খরচ করতে হয়না।
আজকিতলা গ্রামের লটকন বাগান মালিক লোকমান হোসেন বলেন, আমার বাবা ডা. আ. আজিজ প্রথম অল্প কিছু জমিতে লটকন বাগান করেন। পরবর্তীতে লটকনের আবাদ করে জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার লাভ করে। বর্তমানে আমাদের ১৮ বিঘা জমিতে লটকনের বাগান রয়েছে। কাঁচা অবস্থায় গাছে রেখে পাইকাদের নিকট ৩১ লাখ টাকা বিক্রি করি।
লটকন চাষি আয়েস আলি বলেন, আমি গত চার/পাঁচ বছর ধরে লটকন চাষ করছি। দুই বিঘা জমিতে লটকন চাষ করে ৩ লাখ লাখ টাকা আয় করি। কৃষক মোমেন বলেন, আমি পাইকারিভাবে দেড় লাখ টাকার লটকন বিক্রি করেছি।
অপরদিকে, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি খোকন ভূঁইয়া বলেন, অল্প পুঁজিতে লটকন চাষে লাভবান হওয়ায় আমার আগ্রহ বেড়েছে। আমি লটকন আবাদের জন্য ৫বিঘা জমি তৈরি করেছি।
শিবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ বিন সাদেক বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছরের তুলনায় ফলন অনেক ভাল হয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআই