চিকিৎসক হত্যাচেষ্টা, আওয়ামী লীগ নেতাসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মৌসুমী ইয়াসমিনকে শ্বাসরোধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঘটনার চারদিন পর রবিবার বিকেলে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হামলার শিকার চিকিৎসক মেডিকেল অফিসার অভিজিৎ মৃধা বাদী হয়ে থানায় মামলাটি দায়ের করেন।  তবে হামলার ঘটনায় জড়িতদের এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
 
এদিকে, চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন। তিনি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেন।
 
মামলার অপর আসামি হলেন, ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীদের সাবেক খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদার আনোয়ার হোসেন। তিনি স্থানীয় বাহিরদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
 
গত ৯মে আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান ফকির রেজাউল করিমের স্ত্রী ঝর্ণা বেগমকে চিকিৎসা দিতে দেরি হওয়ার অভিযোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নারী চিকিৎসক মৌসুমী ইয়াসমিনকে প্রকাশ্যে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে।
 
একই সময়ে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীদের সাবেক খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদার আনোয়ার হোসেন চিকিৎসক অভিজিৎ মৃধাকে মারধর করে। এই ঘটনার পর থেকে চিকিৎসকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
 
হাসপাতালের কর্তব্যরত দুই চিকিৎসককে মারধরের ঘটনার পর বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. অরুণ কুমার মন্ডল ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান এবং ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে দাবী জানান।
 
ফকির রেজাউল করিম ফকিরহাট উপজেলার মানসা বাহিরদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। 
 
মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুল্লাহ গালিব ইত্তেফাককে বলেন, গত ৯ মে দুপুর দুইটার দিকে মানসা বাহিরদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান ফকির রেজাউল করিমের স্ত্রী ঝর্ণা বেগমের শ্বাসকষ্ট বাড়লে তাকে নিয়ে তার সহযোগী আনোয়ার হোসেন হাসপাতালের জরুরী বিভাগে আসেন। জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেডিকেল কর্মকর্তা মৌসুমী ইয়াসমিন অন্য কাজ ফেলে রেখে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগী ঝর্ণা বেগমকে সুস্থ্য করতে প্রথমে অক্সিজেন দেন। একটু পরে আরেক চিকিৎসক অভিজিৎ মৃধা এসে ওই অসুস্থ্য রোগীর প্রেশার মেপে কম পান। আমরা রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করি। রোগীর চিকিৎসা দেওয়া অবস্থায় রোগীর স্বামী আওয়ামী লীগ নেতা ফকির রেজাউল করিম সেখানে পৌছে কোন কথা ছাড়াই আমার স্টাফ মৌসুমী ইয়াসমিনের হাত চেপে ধরে গলায় থাকা ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে। অনেক জোরাজুরির পর তার হাত থেকে ছাড়িয়ে দৌঁড়ে আমার স্টাফ রক্ষা পান। এতে আমার ওই স্টাফের মৃত্যুর শঙ্কা ছিলো সরকারের নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীকে হত্যার চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগ এনে আমি দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছি।
 
ফকিরহাট উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা পাল এই প্রতিবেদককে বলেন, চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনা জানার পর শনিবার বিকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাগেরহাট-১ আসনের সাংসদ শেখ হেলাল উদ্দিন মারধরের শিকার হাসপাতালের চিকিৎসকসহ সকল কর্মকতাদের সাথে সভা করেন। তিনি এই ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে হামলার ঘটনায় জড়িত ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ফকির রেজাউল করিম ও তার সহযোগী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নিদের্শ দেন। তার নির্দেশেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফকিরহাট থানায় একটি ফৌজদারী মামলা করেছে।
 
ফকিরহাট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জগন্নাথ চন্দ্র রবিবার বিকেল পৌনে পাঁচটায় এই প্রতিবেদককে বলেন, হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক হামলার শিকার অভিজিৎ মৃধা বাদী হয়ে হামলাকারী আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান ফকির রেজাউল করিম ও তার সহযোগী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ৩০৭ ধারায় থানায় একটি মামলা করেছেন। থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিভাস চন্দ্র সাহাকে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
 
ফকিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্বপন কুমার দাস এই প্রতিবেদককে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান ফকির রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে চিকিৎসকদের মারধরের যে অভিযোগ উঠেছে তা আমরা অবহিত হয়েছি। স্থানীয় সাংসদ শেখ হেলাল উদ্দিন ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। দলের শৃঙ্খলা বিরোধী কাজের জন্য ওই নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু