মুলাদীতে ব্যবসায়ী হত্যার অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল

বরিশালের মুলাদীতে ব্যবসায়ী জামাল খান হত্যার অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয়রা। রবিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে স্থানীয় যুবসমাজের নেতৃত্বে হিজলা-মুলাদী সংযোগ ভুলু ডাক্তার সেতুর পশ্চিম পাড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।
 
মিছিলটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও মুলাদী সার্কেল এএসপি অফিসের সম্মূখসহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পূর্ববাজারে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদ আহমেদ তালুকদার ও এসআই মনিরুল ইসলামের বিচারের দাবী জানায়। 
 
জানা গেছে, গত ৯ মে বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার পশ্চিম চরপত্তনীভাঙ্গা গ্রামের মৃত মহসিন দর্জির পুত্র করিম দর্জির বাড়িতে জুয়ার আসরে পুলিশ অতর্কিত হামলা ও তাণ্ডব চালায়। পুলিশের তাণ্ডব থেকে বাঁচতে জুয়াড়িরা অনেকে নয়াভাঙ্গনী নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ওই সময় মুলাদী পৌর এলাকার মোয়াজ্জেম খানের পুত্র ও বন্দরের ব্যবসায়ী জামাল খানও নদীতে পড়ে যায়। পুলিশের ভয়ে স্থানীয়দের কেউ তাকে উদ্ধার করতে পারেনি।
 
ঘটনার পরদিন ১০মে ব্যবসায়ী জামাল খানের লাশ নয়াভাঙ্গনী থেকে উদ্ধার করা হয়। লাশের মাথার পিছনে ও কপালের ডানপার্শ্বে আঘাতের চিহ্ন থাকায় পুলিশের বিরুদ্ধে সন্দেহ দেখা দেয়। নিহতের স্বজনদের ধারণা পুলিশ জামাল খানের কাছ থেকে টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে পানিতে ফেলে দিয়েছে। পরে পুলিশ তার ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করে।
 
এছাড়া ১০মে লাশ উদ্ধারের পরে রাত ৮টার দিকে নিহতের স্বজনরা লাশ দেখতে গেলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদের গালিগালাজ করায় এবং জামাল খানের লাশকে ভর্ৎসনা করায় পরিবারের সদস্যদের মাঝে সন্দেহ আরও তীব্র হয়। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এলাকাবাসীর কাছ থেকে পুলিশের আচরণ শুনে স্থানীয় যুবসমাজের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হলে তারা রবিবার জামাল খানের হত্যার প্রতিবাদে পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে।
 
মিছিল থেকে অবিলম্বে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদ আহমেদ তালুকদার, এসআই মনিরুল ইসলাম, এসআই ফকর উদ্দীনসহ দোষী পুলিশের অপসারণসহ দৃষ্টামূলক শাস্তির দাবী জানানো হয়। তা না হলে মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারী দেওয়া হয়।
 
অপরদিকে থানা পুলিশ মাসোয়ারার টাকা না পেয়ে জুয়ার আসর ও আশপাশে তা-ব চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা জুয়ার আসরে হঠাৎ করে গত ৯ মে অভিযান চালিয়ে ব্যাপক তাণ্ডব করায় এ অভিযোগ ওঠে। একটি প্রভাবশালীমহল দীর্ঘদিন ধরে চরপত্তনীভাঙ্গা এলাকায় জুয়ার আসর বসিয়ে ব্যবসা চালালেও প্রশাসন প্রায় নিরব ভুমিকা পালন করছিলো। আকস্মিক সেখানে অভিযান চালানো এবং ওই ঘটনায় এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু