সোনারগাঁওয়ে গাছ থেকে আম পাড়ায় দুই ছাত্রকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার বিকেলে উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে। আহত দুই ছাত্রকে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ছাত্রের মা পারুল বেগম বাদী হয়ে গত রবিবার রাতে সোনারগাঁ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে মুজিবুর রহমানের ছেলে মোগরাপাড়া এইচজিজিএস স্মৃতি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর বিজ্ঞান শাখার ছাত্র মো. সিয়াম তাদের যৌথ মালিকানাধীন আম গাছ থেকে কয়েকটি আম পাড়ে। এতে করে তার চাচাতো বোন বন্যার সঙ্গে তর্ক হয়। তর্কের এক পর্যায়ে এ নিয়ে স্থানীয় গ্রাম্য মাতাব্বর খোকন মুন্সির নেতৃত্বে মঞ্জু মিয়া, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ ও সুজনসহ ১০-১২ জনের একটি দল স্কুল ছাত্র সিয়ামকে ধরে নিয়ে যায়। পরে মাতাব্বর খোকন মুন্সির বাড়িতে নিয়ে আম গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করে।
এ খবর শুনে সিয়ামের বড় ভাই ঢাকা বিজ্ঞান কলেজের ছাত্র শুভ আহম্মেদ এ বিষয়ে জানতে খোকন মুন্সির বাড়িতে গেলে তাকেও বেঁধে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন দুই ছাত্রকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় ছাত্রের মা পারুল বেগম বাদী হয়ে রবিবার সোনারগাঁ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
নির্যাতনের শিকার ছাত্রের মা বলেন, ‘আমাদের যৌথ মালিকানাধীন আম গাছ থেকে আম পাড়া নিয়ে তর্ক হয়। কিন্তু মাতব্বররা এ তর্কবির্তকের মধ্যে এগিয়ে এসে আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে খোকন মুন্সির বাড়ির আম গাছের সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে জখম করে। এছাড়াও আমাদের জমি তাদের কাছে বিক্রি না করায় তারা আক্রোশে এ নির্যাতন করেছে। আমি এর বিচার দাবি করছি।’
অভিযুক্ত খোকন মুন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘তাদের চাচাতো বোনের সঙ্গে ঝগড়া করার কারণে আমি তাদের শাসন করেছি।’ গাছের সঙ্গে বাঁধার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনও উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান।
সোনারগাঁ থানার ওসি মো.মোরশেদ আলম পিপিএম জানান, দুই ছাত্রকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করার ঘটনায় অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ইত্তেফাক/নূহু