সোমবার গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় দুই বোনকে এসিড দিয়ে ঝলসে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নে খুশিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। রাতেই গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় পুলিশ মঙ্গলবার ২ জনকে আটক করেছে। ভোলা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও আহতদের স্বজনরা জানান, উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নে খুশিয়া গ্রামের হেলাল রাড়ির তিন মেয়ে। তাদের মধ্যে তানজিম আক্তার মালা (১৬) এবং মারজিয়া (৮) গতকাল রাতে খাবার খেয়ে একসঙ্গে ঘুমাতে যায়। রাত ২টার দিকে অপর ছোট বোন মাহিকে টয়লেটে নিয়ে যায় তাদের মা। এ সুযোগে ঘরের দরোজা খোলা পেয়ে অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত ঘরে প্রবেশ করে এবং ঘুমন্ত দুই বোনের ওপর এসিড নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। এতে তানজিমা আক্তার মালার মুখমণ্ডল, দুই চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান ঝলসে যায়।
এ ছাড়া তার পাশে শোয়া ছোট বোন দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী মারজিয়ার হাত ও পেটসহ বিভিন্ন স্থান ঝলসে যায়। এ সময় তাদের চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ছুটে আসে।
হাসপাতালে তাদের পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তাদের মঙ্গলবার দুপুরে ভোলা থেকে বরিশাল পাঠানো হয়েছে।
স্বজনরা জানান, মেধাবি ছাত্রী তানজিমা আক্তার মালা এ বছর উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের আবদুল মান্নান মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এ গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।
আহত ছাত্রীর পরিবার সূতে জানা গেছে, একই বাড়ির ছাত্র রাজিব তানজিমাকে প্রেম প্রস্তাব দিলে তানজিমা তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। এরপর থেকে তানজিমাকে মোবাইলে উত্ত্যক্ত করে আসছিলো রাজিব। আহত ছাত্রী ধারনা করছে, বখাটে যুবক রাজিব এসিড নিক্ষেপ করেছে।
এদিকে আহত মেয়েকে উদ্ধার করতে গিয়ে তাদের মায়ের হাতও এসিড লেগে ঝলসে গিয়েছে।
ভোলা সদর হাসপাতালের আরএমও তৈয়বুর রহমান জানান, আহত তানজিমের বাম চোখের অবস্থা গুরুতর।
ভোলা পুলিশ সুপার মো. মোকতার হোসেন জানান, এ ঘটনায় সকালে ইউসুব ও রাজিবের পিতাকে পুলিশ আটক করেছে। ভোলা থানার ওসি ছগির মিয়া সাংবাদিকদের জানান, এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় আহতদের মা জান্নাতুল ফেরদৌস বাদী হয়ে ভোলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ইত্তেফাক/নূহু