ওসমানীনগরে হামলার ঘটনার ৯দিন পর অবশেষে মামলা রেকর্ড করেছে পুলিশ। উপজেলার উছমানপুর ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের শফিক মিয়ার ছেলে মজলু মিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার মামলাটি রুজু করা হয়েছে।
হামলার ঘটনায় আহতদের মধ্যে সিলেট ওসমানী হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন রহমত উল্যা, শফিক মিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এরমধ্যে শফিক মিয়াকে জ্ঞানহীন অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে আহতদের স্বজনরা জানান। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, আলীপুর গ্রামের সোনা উল্যা, মামুন, মাছুম, তোফায়েল, জাহাঙ্গীর, দুদু মিয়া, মছব্বির, আজমান উল্যা, মুকিদ মিয়া, আবদাল মিয়া ও মহব্বত উল্যা।
জানা যায়, আলীপুর মৌজার জেএল নং-১৭১ এর অন্তর্ভুক্ত ৬৪০ নং দাগের জমি নিয়ে আলীপুর গ্রামের রহমত উল্যা এবং সোনা উল্যার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে সোনা উল্যাসহ তার পক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে মামলাও চলমান। ৬ মে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রহমত উল্যা তার ভাগিনা মজলু মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ওই জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে সোনা উল্যার নেতৃত্বে তার পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে রহমত উল্যা ও মজলু মিয়ার ওপর হামলা করেন। এ সময় রহমত উল্যার পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। এতে রহমত উল্যাসহ তার পক্ষের সাতজন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
হামলার ঘটনায় রহমত উল্যার ভাগিনা মজলু মিয়া বাদী হয়ে হয়ে গত ১০মে ওসমানীনগর থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। থানা পুলিশের তদন্তে প্রাথমিক ভাবে হামলার ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় মঙ্গলবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করে পুলিশ।
হামলার শিকার রহমত উল্যার ভাতিজা বাবুল মিয়া বলেন, আমার পূর্বসূরীদের নামে রেকর্ডিয় জমির দখল নিতে সোনা উল্যা ও তার পক্ষের লোকজন মরিয়া হয়ে ওঠেছে। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় একের পর এক হামলা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদেরকে হয়রাণী করে আসছে। সম্প্রতি সোনা উল্যা ও তাদের পক্ষের লোকজনের অতর্কিত হামলায় আমিসহ সাতজন আহত হই। তাদের হামলায় আমার চাচা রহমত উল্যার একটি পা, ফুফা শফিক মিয়ার দুটি পা ও ফুফাত ভাই মজলু মিয়ার ডান হাতের দুটি আঙুল ভেঙে গেছে। ফুফা শফিক মিয়া এখন লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার অবস্থা সংকটাপন্ন।
তিনি আরো বলেন, মামলা তুলে নিতে হামলাকারীরা প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে। তাদের অব্যাহত হুমকিতে আমরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করেনি।
ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সহিদ উল্যা বলেন, এ সংক্রান্ত বিষয়ে মঙ্গলবার থানার মামলা রুজু হয়েছে। মামলা নং-১১। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু