রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ১৭৭ জনকে চাকরিচ্যুত

রংপুর সিটি কর্পোরেশনে অবৈধ ও অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পাওয়া ১৭৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করেছে কর্তৃপক্ষ। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী আকতার হোসেন আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পাওয়া ১৭৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সকল দেনা পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে অফিসে আসতে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের কাছে থাকা সব ফাইলপত্র বুঝিয়ে দিয়ে যেতেও বলা হয়েছে।’
 
রংপুর সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না নিয়ে ও পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে অনেকটা গোপনে ২০১২ সালে প্রায় ২৪০জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগ দেন সদ্যপ্রয়াত সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা শরফুদ্দিন আহাম্মেদ ঝন্টু। সূত্রের দাবি, এই ২৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও নিয়োগ কমিটিও গঠন করা হয়নি। এমনকি, তাদের নিয়োগের বেলায় কোনও লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষাও নেওয়া হয়নি। উপরন্তু ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়ে শরফুদ্দিন আহাম্মেদ ঝন্টু ও তার সংশ্লিষ্টরা এই ২৪০জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগ দেন।
 
সূত্র জানায়, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শরফুদ্দিন আহাম্মেদ ঝন্টুর আমলে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পাওয়া সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাসিক বেতন বন্ধ করে দেন। একইসঙ্গে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম হয়েছে কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখতে একটি তদন্তকমিটি গঠন করে দেন। সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকতার হোসেন আজাদকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গত কয়েকদিন আগে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির এক সদস্য জানান, অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পাওয়া ২৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ১৭৭ জনের ক্ষেত্রে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
 
অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পাওয়া ১৭৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করার ব্যাপারে মোবাইল ফোনে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকতার হোসেন আজাদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেছি, তাদের নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া অবৈধ ছিল।’
 
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে রসিক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটির মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/এসএস