জিপিএ-৫ পাওয়া জিকুর লেখাপড়া অনিশ্চিত

জিকুর পিতা ২০১২ সালে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রেখে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তারপর থেকে দারিদ্র্যের সঙ্গে অনবরত সংগ্রাম করে চলেছেন জিকু। তার এ সংগ্রাম তার মা এবং ছোট ভাইকে বাঁচিয়ে রাখা। সংসার খরচ চালিয়ে ফসিউর রহমান জিকু এ বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। আসলামপুর ইউনিয়নে তার খালা বাড়ি থেকে লেখাপড়া করে স্থানীয় আলীগাঁও এ গফুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দিয়ে তার এই অর্জনকে বড় করে দেখছেন স্থানীয়রা।
 
জিকু জানায়, তাদের বাড়ি ছিল ভোলার বোরহান উদ্দিন উপজেলার মির্জাকালু এলাকায়। ২০০৭ সালে মেঘনার ভাঙ্গনে ভিটেবাড়ি হারায় জিকুর পরিবার। এ অবস্থায় ২০১২ সালে রোগে ও শোকে পিতা জাকির হোসেন মারা যান। প্রাথমিক বিদ্যালয় পড়ুয়া দশ বছরের জিকু আর দুগ্ধপোষ্য উজ্জ্বলকে কোলে নিয়ে জীবন সংগ্রামে বের হন মা সাহারা আকতার। কাজ নেন ঢাকার উত্তর বাড্ডায় একটি সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে। কিন্তু সেখানে মাত্র ৪ হাজার টাকা বেতনে দু’সন্তানকে নিয়ে থাকা-খাওয়ার পর শিশুদের লেখাপড়া অসম্ভব হয়ে পরে।
 
এই পরিস্থিতিতে ‘স্যোসাইটি ফর স্যোসাল এন্ড টেকনোলজীক্যাল সাপোর্ট’ নামে একটি এনজিওর সহায়তায় শিশু জিকুর পড়ালেখা চলতে থাকে। পিতৃহীন এবং চরম দরিদ্র পরিবারের সন্তান হিসেবে জিকুর থাকা-খাওয়া-পড়ার দায়িত্ব নেয় সংস্থাটি। ফলশ্রুতিতে জিকু জিপিএ-৫ পেয়ে পিএসসি ও জেএসসি পাস করে। শিশুদের জেএসসি পাসের পর এনজিওটিতে  আর দায়িত্ব নেয়ার বিধান নেই। ফলে এনজিওটি জিকুর ছোট ভাই উজ্জ্বলের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেও জিকুর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
 
লেখাপড়া করার বুক ভরা আশা নিয়ে জিকু চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নে তার খালার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এখানে থেকে স্থানীয় আলীগাঁও এ গফুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। ওই বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দিয়ে এ বছর স্বপ্নের জিপিএ-৫ অর্জন করে সে।
 
জিপিএ-৫ অর্জন করলেও সামনে লেখাপড়ার ভবিষ্যত নিয়ে তার চোখেমুখে হতাশার ছাপ বিরাজমান। তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে বহুদূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে জিকু। কিন্ত এই বহুদূর যাওয়ার অর্থ যে নেই তার পরিবারের কাছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু