গোপালগঞ্জে বিএসসি প্রথম বর্ষের পরীক্ষার্থী ফাহিম ফয়সাল শেখ ৯ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি গত ১২ মে গোপালগঞ্জ সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে আসার পথে নিখোঁজ হন। ওই দিন ফাহিম নির্ধারিত মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় বিষয়ক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। ফাহিম ফয়সাল শেখ টুঙ্গিপাড়া উপজেলার লেবুতলা গ্রামের মিঞ্জিল শেখের ছেলে। তিনি টুঙ্গিপাড়া শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বিএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র।
এ ব্যাপারে ফাহিম ফয়সাল শেখর বোন লুৎফুন্নেছা টুঙ্গিপাড়া থানায় একটি জিডি দায়ের করেছেন। লুৎফুন্নেছা বলেন, আমার ভাই ফাহিম ফয়সাল ঢাকায় মামা ফিরোজ আহম্মেদ খানের বাসায় থেকে পড়াশোনা করত। গত ১১ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা থেকে টুঙ্গিপাড়ার গিমাডাঙ্গা গ্রামের মামা বাড়িতে আসে। বিএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য ১২ মে সকাল ১১টার দিকে সে টুঙ্গিপাড়া শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে প্রবেশপত্র তুলে গোপালগঞ্জ সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তারপর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে। ওই দিনের পরীক্ষায় সে অংশগ্রহণ করেনি। তার ব্যবহৃত মোবাইল সেটটি বন্ধ রয়েছে। ১৩ মে এ ব্যাপারে আমরা টুঙ্গিপাড়া থানায় একটি জিডি দায়ের করেছি। তারপর থেকে সম্ভাব্য সব জায়গা খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। কি কারণে সে নিখোঁজ রয়েছে তা অনুমান করতে পারছিনা। আমার ভাই অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলো। সে পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গঠনের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের কর্মী হিসেবে কাজ করতো। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আমরা ভেঙে পড়েছি। আমরা তার সন্ধান চাই।
গোপালগঞ্জ বিডি ক্লিনের জেলা সমন্বয়কারী সুজন দাস বলেন, ফাহিম ফয়সাল শেখ গত ডিসেম্বর পর্যন্ত আমাদের সংগঠনের সদস্য ছিলো। সে অত্যন্ত ভদ্র ও সদালাপী। পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশের একজন কর্মী হিসেবে, সে সব সময় কাজ করেছে। গত ১২ মে গোপালগঞ্জে পরীক্ষা দিতে এসে নিখোঁজ হয়েছে। তাকে খুঁজে পেতে আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছি।
টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি এ.কে.এম এনামূল কবীর বলেন, জিডি দায়ের করার পর আমরা বাংলাদেশের সব থানায় ম্যাসেজ পাঠিয়ে দিয়েছি। পাশাপাশি এ ব্যাপারে আমরা তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। নিখোঁজের ৯ দিন পরও আমরা তার কোন সন্ধান পাইনি। কলেজ ছাত্রকে খুঁজে বের করতে আমাদের সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ইত্তেফাক/এসএস