মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে র্যাব ও পুলিশের লাগাতার অভিযানের কারনে রংপুরের মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা এখন ধরণ পরিবর্তন করেছে। আত্মগোপনে থেকেও চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগে নির্বিঘ্নে মাদক বিক্রির আন্তানায় গিয়ে মাদকসেবীরা মাদক সংগ্রহ করতো। কিন্ত র্যাব ও পুলিশের অভিযানের কারনে সেখানে বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। এখন সেবনকারীদের কাছে বিভিন্ন মাধ্যমে মাদক পৌঁছে দিচ্ছে ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, রংপুর মহানগরের সিগারেট কোম্পানী, বাহার কাছনা, জুম্মাটারি, খামারপাড়া, হাজির ব্রিজ, বনানীপাড়া, আলমনগর, বাবুপাড়া, রেলওয়ে স্টেশন, মডার্ন মোড়, পার্কের মোড়, কলেজপাড়া, আশরতপুর, পুরাতন ট্রাকস্ট্যান্ড, মৎস্য ভবন, চকবাজার, জলকর, খটখটিয়া, হনুমানতলা, হাজীর হাট, মেডিকেল কলেজ মোড়, মেডিকেল পূর্বগেট, দর্শনা মোড়, ভুরারঘাট, বুড়িরহাট, সাহেবগঞ্জ, সাতমাথা, মাহিগঞ্জ আমতলা, রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, গনেশপুর, শাপলা চত্ত্বর, পুরাতন সদর হাসপাতাল সুইপার পট্টি, বৈরাগীগঞ্জ, দমদমা এবং কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ, মিলনবাজার, গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর, মিঠাপুকুর উপজেলা শুকরেরহাট, রানীপুকুর, পীরগাছা বাজার এবং পীরগঞ্জ উপজেলা সদর, কাচদহ, দুধিয়াবাড়ী ও ভেন্ডাবাড়ী, চতরা, মদারগঞ্জ মাদক কেনাবেচার প্রধান কেন্দ্র।
এছাড়া হারাগাছ পৌর এলাকার সবচেয়ে বেশি মাদক বিক্রি হয় সারাই বাজার, চাঁদনি বাজার, আমবাগান, জয় বাংলা মোড়, ভিতরকুঠি, বানুপাড়া, চরচতুরা, দরদি বাজার, মায়া বাজার, মেনাজ বাজার, দালাল হাটখোলা, কাউনিয়া সদরের মীরবাগ রেলস্টেশন, হলদিবাড়ী, তকিবল বাজারসহ কাউনিয়া ও গংগাচড়া উপজেলার তিস্তা নদীর চরাঞ্চল।
গত এক সপ্তাহে পুলিশ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নারীসহ বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এ সময় ২ হাজার পিস ইয়াবা ও শতাধিক বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। মাদকসেবীদের কাছে ইয়াবা এখন সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। মাদকাসক্তের শতকরা ২৫-৩০ ভাগই এখন ইয়াবাসেবী।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, রংপুরে ফেন্সিডিল ও গাঁজার বড় চালান আসে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও দিনাজপুর সীমান্ত দিয়ে। এ তিনটি জেলার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে ভারতের সঙ্গে। আর ইয়াবার বড় চালান আসছে কক্সবাজার থেকে। ইয়াবার পাইকারি বিক্রেতা বা সেলসম্যানের ভূমিকায় রয়েছেন কিছু চিহ্নিত ব্যক্তি। এসব ব্যক্তির নাম পুলিশের অপরাধ তালিকায়ও রয়েছে। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ধরা পড়লেও আইনের মারপ্যাঁচে ফলে তারা জামিন পেয়ে পুনরায় ব্যবসা শুরু করছে।
রংপুর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানের কারনে মাদক ব্যবসায়ীরা কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। পুলিশের অভিযানে আটক হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা। মাদক ব্যবসায়ী ও এর গডফাদারেরা যত শক্তিশালী হউক না কেন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
ইত্তেফাক/নূহু