তানোরে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

রাজশাহীর তানোরে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে মারপিট করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহতের নাম সুম্মাতুন বেগম (৩৫)। ওই ঘটনায় পুলিশ আত্মহননের চেষ্টাকারী স্বামী নিশার উদ্দীনকেও (৩৮) আটক করেছে। নিশার পুলিশী হেফাজতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) চিকিৎসাধীন। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া ইউনিয়নের জুরানপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
 
নিহত সুম্মাতুন বেগম একই উপজেলার রাতৈল গ্রামের শুকুর আলীর মেয়ে। নিশার উদ্দীনের বাড়ি উপজেলার জুরানপুর গ্রামে। তার পিতার নাম সৈয়দ আলী।
 
এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার দুপুরে নিহত সুম্মাতুন বেগমের পিতা শুকুর আলী বাদী হয়ে ৩জনকে আসামি করে তানোর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
 
আসামিরা হলেন, সুম্মাতুন বেগমের স্বামী নিশার উদ্দীন (৩৮), নিশারের বড় ভাই জেসার উদ্দীন (৪৫) ও জেসার উদ্দীনের স্ত্রী রিনা বেগম (৩২)।
 
নিহত সুম্মাতুন বেগমের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে বিল্পব হোসেন রাতৈল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র ও মেয়ে সুমী আক্তার একই স্কুলের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী। তারা দুজনই নানাবাড়ি থেকে লেখাপড়া করে।
 
ছেলে বিল্পব হোসনে এই প্রতিবেদককে জানায়, ঘটনার দিন সকালে নানার বাড়ি থেকে মার সঙ্গে দেখা করতে জুরানপুর বাবার বাড়িতে আসে সে। কিন্তু তার পিতা তাকে কিছুক্ষণ পর আবার নানার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।
 
নিহত সুম্মাতুন বেগমের ছোট ভাই সালমান শাহ জানান, ১৮বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে তাদের বিবাহ দেয়া হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো। 
 
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে এগারটার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়া রাজশাহী সিনিয়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোদাগাড়ী সার্কেল) মো. একরামুল হক জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। সে কারণে হয়তো তারা দুজন বিষ পান করেছে তবে নিহত সুম্মাতুন বেগমের গলা ও বুকে আঘাতের চিহ্ন থাকায় তার পিতা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
 
স্বামী নিশার বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তাকে প্রথমে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে আটক করে পুলিশী পাহারায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। নিহতের ময়না তদন্তের রির্পোট আসার পরই সঠিকভাবে জানা যাবে তার মৃত্যুর কারণ।
 
তানোর থানা ওসি (তদন্ত) মোঃ মহিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের পিতা বাদী হয়ে ৩জনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। প্রধান আসামি নিহতের স্বামী পুলিশী হেফাজতে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসারত। বাকি আসামীদের ধরতে চেষ্টা চলছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু