ভাঙাচোরা ও খানাখন্দ ভরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ৭০ কি. মি. এলাকায় যানজট এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। রোজা ও ঈদে প্রতিনিয়তই যানজট থাকায় এ রোডে চলাচলকারী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
গত শনিবার কালিয়াকৈরের সুত্রাপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক পরিদর্শনে এসে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট নিরসনের জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। এ সময় চার লেন প্রকল্পের শীর্ষ কর্মকর্তা, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা এবং গাজীপুর ও টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রীর নির্দেশের পরও যানজট নিরসনের জন্য প্রশাসন প্রয়োজনীয় কঠোর কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
গোড়াই হাইওয়ে থানার পুলিশ ও মির্জাপুর থানা পুলিশ যানজটের সত্যতা স্বীকার করেছেন।মঙ্গলবার মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাস, দেওহাটা ও গোড়াইসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে যানজটে স্থবির হয়ে পরেছে পুরো মহাসড়ক।
আজ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে গিয়ে দেখা গেছে, যানজটে আটকে পড়া যাত্রীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের চিত্র। টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা যাওয়ার দেড় ঘন্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ১২-১৪ ঘন্টা। তীব্র যানজটের ফলে নারী, শিশু ও অসুস্থ্য রোগী ও প্রবীণদের দুর্ভোগের শেষ নেই। অনেক যাত্রীর বিমানের ফ্লাইট বাতিলও হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। যানজট এড়ানোর জন্য অনেকে পায়ে হেঁটে নিজ গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
পুলিশ সুত্র জানায়, এ মহাসড়কের যানজটের অন্যতম কারন হচ্ছে, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চার লেন প্রকল্পের কাজ ও দীর্ঘদিন লাগাতার বৃষ্টির কারনে বেশিরভাগ রাস্তায় খানাখন্দ ও ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় এ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত এই ৭০ কি. মি. মহাসড়কের অধিকাংশ স্থানে পিচ ঢালাই উঠে ছোট বড় অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রবল বর্ষণের ফলে এ মহাসড়ক এখন মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে।
মহাসড়কের কদিমধল্যা, পাকুল্যা, জামুর্কি, নাটিয়াপাড়া, করটিয়া, টাঙ্গাইল বাইপাস, দেওহাটা, ধেরুয়া, সোহাগপাড়া ও ক্যাডেট কলেজসহ অধিকাংশ সড়কের দুইপাশে কাঁচা মাটি ফেলায় এবং ব্রিজ নির্মানের কাজ করায় যানজট হওয়ার অন্যতম কারন। এছাড়া মহাসড়কে ভাঙ্গা চোরা গর্তে যাত্রীবাহী বাস ও মালবাহী ট্রাক বিকল হয়ে যানজট আরও অসহনীয় করে তুলেছে।
পর্যাপ্ত হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় রেকারের অভাবে দেবে যাওয়া ও বিকল হওয়া যাত্রীবাহী বাস ও মালবাহী ট্রাক উঠাতে দেরি হওয়ায় এ যানজট তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যানজটের কবলে পরে অনেকে চাকরীর পরীক্ষা ও বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাও দিতে পারছে না। এমনকি নির্ধারিত সময়ে অফিসও করতে পারছেন না।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত মহাসড়ক জুড়েই এখন তীব্র যানজটে স্থবির। সবচেয়ে বেশী দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে মির্জাপুর থেকে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা মোড় পর্যন্ত এলাকায়। যানজটের কারনে উত্তরাঞ্চল ও টাঙ্গাইলের মধুপুর, ধনবাড়ি, জামালপুর ও শেরপুর জেলার অধিকাংশ যানবাহন বিকল্প মহাসড়ক হিসেবে সখীপুর-ভালুকা, টাঙ্গাইল- ময়মনসিংহ হয়ে ময়মনসিংহ-ঢাকা রাস্তায় চলাচল করছে বলে পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই যানজট এখন চন্দ্রা থেকে গাজীপুর ও চন্দ্রা থেকে বাইপাইল-নবীনগর ও বাইপাইল –আশুলিয়া- উত্তরা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
গোড়াই হাইওয়ে থানা পুলিশ জানায়, মির্জাপুরের ধেরুয়া রেলওয়ে ওভার পাস নির্মান, কোনাবাড়ি ও চন্দ্রা এলাকায় দুটি ওভার ব্রিজ নির্মানের ফলে দুইদিক থেকে আসা ও যাওয়ার পথে যানবাহন ঠিকমত পারাপার হতে পারছে না। একদিকে প্রচুর বৃষ্টি অপর দিকে তীব্র যানজটের কারনে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বলে হাইওয়ে পুলিশ স্বীকার করেছেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম মিজানুল হক মিজান বলেন, মহাসড়কের চার লেনের কাজ হওয়ায় এবং প্রবল বৃষ্টির কারনে যানজট বেড়েছে। যানজট নিরসনের জন্য ট্রাফিক পুলিশ, থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এ প্রতিবেদন পাঠানো পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও বঙ্গবন্ধু সেতু জাতীয় মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট রয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু