মির্জাপুরে বেদে পল্লীতে আধুনিকতার ছোঁয়া

আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে বেদে পল্লীতে। বেদে পল্লীর পলিথিনে মোড়ানো ঝুপড়ি ঘরে সৌরবিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে ঝুপড়ি ঘরে চলছে টিভি, ফ্রিজ ও ফ্যান। বেদে পল্লীর এই আধুনিকতা এক নজর দেখার জন্য বিভিন্ন গ্রামের লোকজন ভিড় করছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠা বেদে পল্লীতে। আজ বুধবার উপজেলার কয়েকটি এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
 
জানা যায়, এক সময় বেদেরা দল বেধে বিভিন্ন নদ নদীতে নৌকায় বসবাস করতো। বেদে-বেদেনীরা বিভিন্ন গ্রাম থেকে গ্রামান্তর ছুটে বেড়াতো বিভিন্ন পসরা নিয়ে। ছেলেরা কাঁধে ঝুলিতে করে নিয়ে বাঁশি, বানর ও বিভিন্ন তাবিজ-কবজ নিয়ে বিক্রি করতো। আর মেয়েরা শিঙ্গায় ফুক, বিভিন্ন রোগের ঝাড়-ফোক ও কাচের চুড়িসহ বিভিন্ন থালা-বাসন বিক্রি করে সন্ধ্যা হলে নদ-নদীতে নৌকায় ফিরে যেত। নৌকায় ফিরে কুড়িয়ে আনা বিভিন্ন বাঁশ ও লাকড়ি দিয়ে রান্না করে খাবার খেত। কিন্তু কালের বিবর্তনে অনেক কিছুই তাদের পরিবর্তন হয়েছে।পাল্টে গেছে জীবন চিত্র।
 
কয়েকজন বেদে জানিয়েছেন, নিজ নিজ বাড়ি ঘর না থাকায় তারা তাদের সন্তানদের লেখাপড়া শেখানোর জন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করতে পারেন না। এছাড়া স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা এবং জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিও ঠিকমত গ্রহণ করতে পারেন না। ফলে তাদের সন্তানের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তবে আধুনিকতার জন্য তারা আজ অনেক কিছুই করতে ও শিখতে পেরেছে। গরম থেকে রক্ষার জন্য বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করছে।এর ফলে তাদের পলিথিনে মোড়ানো ঝুপড়ি ঘরে আলো জ্বলছে, ফ্যান ঘুরছে, টিভি দেখতে পারছে। এছাড়া অনেকে জ্বালানীর বিকল্প হিসেবে লাকড়ির পরিবর্তে এলপি গ্যাস ব্যবহার করছে।
 
মির্জাপুর উপজেলার পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড, মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, গোড়াই,লতিফপুর, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বেদে সম্প্রদায়দের লোকজন পলিথিনে মোড়ানো ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছে।
 
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত সাদমীন বলেন, বেদেদের জীবন মান উন্নয়নের জন্য সরকার ও এলাকার সমাজ সেবী ও জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসতে হবে।
 
ইত্তেফাক/এসএস