আগৈলঝাড়ায় ঝড়ে স্কুলঘর বিধ্বস্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ

ঝড়ে বিধ্বস্ত হওয়ায় রাংতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ থাকলেও বিদ্যালয় সংস্কার বা নির্মানের জন্য কর্তৃপক্ষের সুনজর পড়েনি। চরম হতাশায় রয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

রাংতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, গত ১৭ এপ্রিল উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যায় কালবৈশাখী ঝড়। ওই ঝড়ে রাংতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের টিনের নির্মিত ঘরটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ও অপর একটি টিনসেড ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়। প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী উপজেলার বিভিন্ন দফতরে ৭ কোটি ৮২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।

বিধ্বস্ত টিনসেডের ওই শ্রেণিকক্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির দুটি শাখার শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হত। ঝড়ে মূল ভবনের অপর টিনসেড ঘরের টিনের চালাসহ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। স্কুল বিধ্বস্ত হওয়ার পর কিছুদিন বিদ্যালয়ের মাঠে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাশ করানো হলেও বর্তমানে বৃষ্টির কারণে তাদের পাঠদান সম্পূর্নরুপে বন্ধ। এ ছাড়াও বিদ্যালয়ে দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি বিজ্ঞান ভবন থাকলেও নিম্নমানের কাজের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে বিজ্ঞানাগারের যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে।

গ্রামের কৃতী সন্তান, সাবেক সচিব ও রাষ্টদূত আ. মান্নান হাওলাদার ১৯৯৪ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে শিক্ষায় সাফল্যের ধারাবাহিকতায় চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ৯২.৮ ভাগ। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ছয় শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য দশটি শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজন। বর্তমানে আছে মাত্র চারটি। এই চারটি শ্রেণীকক্ষের গা ঘেঁষে কোনরকমে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

বিদ্যালয়ের বিধ্বস্ত ঘর সংস্কারের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট আবেদন করলে গত এক মাসেও কোন সারা মেলেনি বলে জানান প্রধান শিক্ষক।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফ আহমেদ রাসেল জানান, তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বরিশাল জেলা প্রশাসককে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। সংস্কার বা নির্মান দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। নতুন ভবন বরাদ্দের জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ইত্তেফাক/নূহু