চট্টগ্রামে পবিত্র রমজান মাসে আবাসিকে চরম গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। বিকেল ৫টার পর থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আবাসিক গ্রাহকরা গ্যাস পাচ্ছে না। রান্নার চুলা জ্বলছে মিটমিট করে। ইফতারির আগ মুহূর্তে গ্যাস সংকটের কারণে বিপাকে পড়েছেন গৃহিণীরা। গত ৪/৫ দিন যাবত্ চরম গ্যাস সংকট বিরাজ করছে। কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে চট্টগ্রামে গ্যাসের বরাদ্দ কমে গেছে। ফলে পাইপ লাইনে প্রেসার কমে যাওয়ায় এই সংকট বিরাজ করছে। শুধু আবাসিকেই নয়, শিল্প, বাণিজ্যিক সকল পর্যায়ে গ্যাস সংকট বিরাজ করছে।
গ্যাস নিয়ে রমজানে গৃহিণীদের ভোগান্তি বেড়েছে। গৃহিণীরা যখন ইফতারি ও খাবার তৈরির জন্য প্রস্তুতি নেয় তখন চুলায় গ্যাস থাকে না। ফলে দোকান থেকে ইফতারি কিনতে হচ্ছে রোজাদারদের। নগরীর আতুরার ডিপো এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ হোসেন জানান, প্রতিদিন বিকেল ৪টার পর থেকে পাইপ লাইনে গ্যাসের প্রেসার কমে যাচ্ছে।
কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির কন্ট্রোল রুম জানায়, বরাদ্দ কমে যাওয়ায় গত কয়েক দিন যাবত্ সরবরাহ লাইনে প্রেসার কমে যাচ্ছে। দুপুর ১টার পর থেকে গ্যাস সংকটে পড়ছে বিভিন্ন গ্রাহক। শিল্প, আবাসিক, বাণিজ্যিক সকল পর্যায়ের গ্রাহককে গ্যাস সংকটে পড়তে হচ্ছে। সন্ধ্যা ৭/৮ টার পর প্রেসার বাড়ে। কন্ট্রোল রুম জানায়, নগরীর চান্দগাঁও, বাকলিয়া,বাদুরতলা, চকবাজার, পাঁচলাইশ, খুলশি, লালখান বাজার, ফিরিঙ্গি বাজার, আগ্রাবাদ, পাহাড়তলী, শুলকবহরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রাহকদের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
চট্টগ্রামে গত এক যুগ ধরে গ্যাস সংকট বিরাজ করছে। গত ৬ বছর ধরে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ রয়েছে। তারপরও গ্যাস সংকট কাটছে না। সংকট আরো প্রকট হয়েছে। চট্টগ্রামে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। আর বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০০ থেকে ২১০ মিলিয়ন ঘনফুট।
জানতে চাইলে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী খায়েজ আহমেদ মজুমদার ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্যাস সংকট নিয়ে অভিযোগ পাচ্ছি। গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। সমস্যা তুলে ধরে পেট্রোবাংলাকে চিঠি দিয়েছে। চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর জন্য আলোচনা করেছি। সিএনজি ফিলিং স্টেশন আগে বিকেল ৩টা থেকে বন্ধ থাকত। এখন বিকেল ৫টার পর বন্ধ রাখা হচ্ছে। এই কারণেও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।’