গোপালপুরে পায়ে লোহার শিকল বাঁধা এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম তোফাজ্জল হোসেন (৩০)। আপন ভাই ও ভাবীদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা যায়।
বুধবার সন্ধ্যারাতে আলমনগর ইউনিয়নের নবগ্রাম দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।। তোফাজ্জল ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছোট ছেলে।
পুলিশ ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, নিহত তোফাজ্জল হোসেন ছিলেন মানসিক রোগী। কয়েক বছর আগে তার স্ত্রী তালাক দিয়ে চলে যান। মাস দেড়েক আগে মা রহিমা বেগম মারা যাওয়ার পর তাকে দেখাশোনার কেউ ছিল না। প্রায় দুই মাস ধরে তার আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। ভাই ও ভাবীরা মিলে প্রায়ই তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। একমাস ধরে পায়ে লম্বা শিকল দিয়ে বেঁধে ঘরে বন্দী করে রাখা হয়েছিল। খাবার দাবার ঠিকমত দেয়া হতো না। চিকিৎসার অভাবে তিনি খুব দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন।
এলাকাবাসী জানান, শারিরীক ও মানুষিক অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং ক্ষুধার জ্বালায় অতীষ্ট হয়ে গত বুধবার বিকালে পায়ে লোহার লম্বা শিকলে বাঁধা অবস্থায় নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।
ওসি হাসান আল মামুন জানান, থানায় একটি অপমৃত্য মামলা দায়ের করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা যাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। তারপর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/নূহু