খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে স্থগিত থাকা তিনটি কেন্দ্রে আগামীকাল বুধবার পুনরায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পাশাপাশি ভোটগ্রহণের পূর্বে ওইসব কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার বদলে নতুন ‘সেটআপ’ দেয়া হয়েছে।
গত ১৫ মে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইকবালনগর মাধ্যমিক স্কুল, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের লবণচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।
কেন্দ্রগুলো হচ্ছে, নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইকবালনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের লবণচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় কেন্দ্র। এর মধ্যে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে শুধু সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে এবং ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ভোটগ্রহণ হবে। এই তিনটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলের প্রার্থী রয়েছেন ২১ জন।
কেসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী জানান, স্থগিত হওয়া তিনটি ভোট কেন্দ্রে তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। প্রতিটি কেন্দ্রের ভেতরে ২২ জন পুলিশ ও ১৭ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। র্যাবের ৩টি এবং পুলিশের ৩টি টিম টহল দেবে। এছাড়া এক প্লাটুন বিজিবি ও পুলিশের একটি টিম স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে। কেন্দ্রগুলোতে ৫৭ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, পুনঃভোটগ্রহণের জন্য ওই তিনটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার এমনটিক প্রার্থীদের এজেন্টও পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ নতুন সেট আপ দিয়ে পুনঃভোটগ্রহণ করা হবে। তিনটি কেন্দ্রে ৫৭ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।
সূত্র জানায়, ইকবালনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ১২৪ জন, লবণচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ১৬ জন ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ৬৯১ জন।
উল্লেখ্য, কেন্দ্র তিনটির দুটি সংরক্ষিত ও দুটি সাধারণ ওয়ার্ডের আওতায় হলেও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে ভোটের ব্যবধান বেশি থাকায় বর্তমান কাউন্সিলর মো. শমশের আলী মিন্টুকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ফলে সাধারণ ৩১ এবং সংরক্ষিত ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হবে। পুন:ভোটগ্রহণে সাধারণ ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আরিফ হোসেন মিঠু (ব্যাডমিন্টন র্যাকেট), শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল (টিফিন ক্যারিয়ার), এসএম আসাদুজ্জামান রাসেল (ঝুড়ি), কাজী মো. ইউসুফ আলী মন্টু (মিষ্টি কুমড়া), জিএম আব্দুর রব সজল (ট্রাক্টর), মো. আলী আজম মোল্লা (রেডিও), মো. আসলাম হোসেন (করাত), মো. গোলাম মোস্তফা সজিব (ঠেলাগাড়ি), মো. জাহিদ (ঘুড়ি) ও মো. শরিফুল ইসলাম মুন্না (লাটিম) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া সংরক্ষিত দু’টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মাজেদা খাতুন (আনারস), রুমা খাতুন (চশমা), কোহিনুর আক্তার (বই), লিভানা পারভীন (গ্লাাস), শাহনুর বেগম (মোবাইল ফোন) এবং সংরক্ষিত ১০ নম্বর ওয়ার্ডের লুৎফুন নেছা (চশমা), রোকেয়া ফারুক (হেলিকপ্টার), বিলকিস আরা বুলি (স্টিল আলমারি), মিসেস রোকসানা কালাম লিলি (মোবাইল ফোন), মোসা. হোসনেয়ারা (গ্লাস), সাহানা পারভীন (ডলফিন), হাসিনা আকরাম (আনারস) ও হোসনেয়ারা বেগম চাঁদনী (বই) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ইত্তেফাক/এসএস