শিশুসন্তানের চিকিৎসা খরচের ঋণের দায়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মা

পাইকগাছা উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু শিক্ষার্থী আহত হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত বাম পায়েচিকিৎসার জন্য ঋণ করতে হয়েছিল তার স্বামী পরিত্যক্ত মাকে। তারপর সে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে নিরূপায় দুজনে এখন পালাতকের জীবন যাপন করছেন। 
 
জানা যায়, যে তিন মাস আগে একটি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয় পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির নাছিরপুর গ্রামের হতদরিদ্র ও স্বামী পরিত্যক্তা অসহায় শেফালী বেগমের ছোট ছেলে ৫ম শ্রেণীর স্কুল ছাত্র মুক্তাদুল (১০)। বালু বোঝাই ট্রলি কপিলমুনি কলেজ রোডে তার পায়ের গোড়ালীর অংশ ভেঙে চুরমার করে দেয়। মুক্তাদুল এ দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করতে চলেছিল। এ জন্য হতদরিদ্র মা শেফালী মানুষের হাতে-পায়ে ধরে ২০/২৫ জনের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫/৭ হাজার টাকা ধার করে চিকিৎসা খরচ চালান। 
 
চারজনের সংসারে ভাড়ার বাসা চালাতে হিমশিম খেয়ে স্বামী পরিত্যাক্তা মা শেফালী এখন চোখে ঝাপসা দেখছেন। কি খাবেন? বাসা ভাড়া কিভাবে দেবেন? তিনি কি করবেন? কোন কুল কিনারা পাচ্ছেন না। 
 
অসহায় এ মা জানান, খুলনার চিকিৎসক যখন তার শিশু সন্তানের পা কেটে ফেলতে বলেন তখন মা শেফালী চিকিৎসকের পা জড়িয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। পরবর্তীতে চিকিৎসক বলেন টাকা হলে চিকিৎসা হবে। তখন হতদরিদ্র মা শেফালী গ্রামীণ ব্যাংক, উত্তরণ, প্রত্যাশাসহ বিভিন্ন এনজিওর নিকট ধর্ণা দিয়ে চড়া সুদে টাকা নিয়ে শিশু মুক্তাদুলের চিকিৎসা করেন। এখনও চিকিৎসা চলছে তবে মা শেফালী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন দেনার দায়ে। 
 
 
এ বিষয়ে শেফালী বলেন, উপজেলার চাঁদখালী গ্রামে তার বাপের বাড়ি। অভাবের তাড়নায় এসেছিলাম কপিলমুনিতে। ছোট্ট খুপড়ি ভাড়া নিয়েও সেখানে থাকতে পারছি না ঋণের জ্বালায়। সেই সঙ্গে মেয়েমানুষ বলে কুপ্রস্তাবের স্বীকার হতে হয় প্রতিনিয়ত।
 
তিনি আরও বলেন, ধার দেনার পরিমানের চেয়ে সুদের পরিমানটা বেশী। আমার পক্ষে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা পরিশোদের পয়সা নেই। আবার তাদের হাতে ধরা পড়ে জেলে গেলেও ছাড়াবার কেউ নেই। কি করবো আমি! মরলে তো শোধ হবে না! আবার একটা মেয়েও আছে! 
 
এ বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কওসার আলী জোয়ার্দ্দার বলেন, শেফালী তার ছোট ছেলের জন্য অনেক অপমান ত্যাগ স্বীকার করেছে। তারপরও সে বেঁচে আছে। ঋণের পরিমান দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। সরকার প্রধান ও বিত্তশালীরা সহযোগিতা না করলে সে কখনোই মুক্তি পাবে না। শেফালীর দুঃখে হৃদয়বানরা হাত বাড়ালে তার শিশু পুত্রের চিকিৎসা চলবে ও ঋণ মুক্তি মিলবে।
 
০১৯১৫৭৭০০৩২ নম্বরে যোগাযোগ করে সহযোগিতা কামনা করেছেন অসহায় শেফালী।
 
ইত্তেফাক/নূহু