অবশেষে অবৈধ দখল থেকে বুড়িগঙ্গা নদীর তীর উদ্ধারে সাড়াশি অভিযান শুরু করেছে বিআইডব্লিউটিএ। প্রথম দিনে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। এ সময় নদীর তীরে জমাট করে রাখা পাথর জব্দ করে তা চার লাখ ৩২ হাজার টাকায় প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ফতুল্লার মুন্সিখোলা, তালতলা, পাগলা বাজার এলাকায় বুড়িগঙ্গার তীরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম বানু শান্তির নেতৃত্বে বিআইডব্লিউটিএ ঢাকা নদী বন্দর উচ্ছেদ অভিযান চালায়। আজ বুধবার সকালে আলীগঞ্জ থেকে ফতুল্লা লঞ্চঘাট পর্যন্ত অভিযান চলবে।
বিআইডব্লিউটিএ ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক (বন্দর) একেএম আরিফ উদ্দিন জানান, বুড়িগঙ্গার তীর পরিদর্শন করে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক পলাশ ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় ৩ মে জিডি দায়ের করি। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষে হাইকোর্টের নির্দেশে কয়েক বছর আগে বুড়িগঙ্গা নদীর ফতুল্লার পোস্ট অফিস থেকে পাগলা মুন্সিখোল পর্যন্ত এলাকায় কোটি টাকা ব্যায়ে জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও সীমানা পিলার স্থাপন করা হলেও হাইকোর্টের নির্দেশের কোন তোয়াক্কাই করেনি প্রভাবশালী মহল। যা মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ সরাসরি অমান্যের সামিল ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
তিনি আরো জানান, প্রথম দিন বিভিন্ন পণ্য মজুদ রাখার পাকা গুদাম ঘর, বালু, পাথর, কয়লা ও ইট বিক্রির গদি ঘর এবং টঙঘরসহ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে আলীগঞ্জে অভিযান চালানো হবে।
পুলিশ ও গোয়েন্দা মতে পলাশের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি ডাবল মার্ডারসহ ৪টি হত্যা মামলা রয়েছে। এছাড়া ফতুল্লা ও ও সদর মডেল থানায় চাঁদাবাজী, লুট ও মারধরসহ ২১টি মামলা রয়েছে। প্রত্যেকটি মামলায় পলাশ চার্জশিটভূক্ত আসামি। ৩ এপ্রিল দৈনিক যুগান্তরে তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশ করা হয়। ওই সংবাদের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করে পলাশের বিরুদ্ধে জিডি করে অবৈধ স্থাপনা অপসারনের উদ্যোগ নেয় বিআইডব্লিউটিএ।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে সার্বিক নিরাপত্তায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে ছিলাম। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে বুধবারও উচ্ছেদ অভিযানে থাকবে পুলিশ।
ইত্তেফাক/নূহু