সীতাকুণ্ডে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের কারণে পরিবহন শ্রমিকদের হামলায় ওজন স্কেলের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি চুরমার হয়ে গেছে। এ ঘটনার পর গত ১৮ এপ্রিল থেকে অনিদির্ষ্টকালের জন্য ওজন স্কেল বন্ধ হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ ২শ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড় দারোগারহাট ওজন স্কেলে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ। কিন্তু অভিযোগের কোন সুরাহা না হওয়ায় এপর্যন্ত দুইবার সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও দীর্ঘ যানজটসহ আসা যাওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। গাড়িচালকরা জানান, তাদের গাড়িতে নিয়মের বাইরে মাল না থাকলেও তারা অযাচিতভাবে অতিরিক্ত টাকা দাবি করে বসে। আর টাকা না দিলে স্কেলে কর্মরতরা গাড়ির ড্রাইভারদেরকে মারধরসহ অশালীন ভাষায় গালাগালি করে। তাছাড়া ওজন স্কেলে অতিরিক্ত ওজনের গাড়ি রেজিস্টারে না তুলে টাকার বিনিময়ে পার করে দেওয়া এবং পণ্যবাহী গাড়ীর ওজন মাপা হলেও রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ না করে চালকদের কাছ থেকে হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে ছিল।
এই স্কেলকে ঘিরে গড়ে উঠা সিন্ডিকেটের কারণে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হতো। এদিকে স্কেলটির বিভিন্ন অভিযোগ যাচাই করে সীতাকুণ্ড উপজেলা সদ্য বিদায়ী ইউএনও মোঃ নাজমূল ইসলাম ভূঁইয়া চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দেন। তদন্তে উল্লেখ করা হয়, ওজন স্কেলে গাড়ি পারাপারে অপ্রতুল ব্যবস্থাপনার কারণে বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ৮/১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এতে করে জনমনে চরম অসন্তোষ ও বিশৃংখলা সৃষ্টির আশংকা বিরাজ করে। রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সসহ সাধারণ যাত্রীবাহী পরিবহনসমূহ চরম ভোগান্তির শিকার হয়।
তদন্তে আরো বেরিয়ে আসে, ওজন স্কেলে রক্ষিত হস্তলিখিত রেজিস্টার এবং কম্পিউটার জেনারেটেড গাড়ির তথ্যে অসামঞ্জস্যতা আছে। ১২ ঘন্টায় যেখানে ৪০/৫০টি গাড়ির ওজন মাপা হয়, সেখানে রেজিষ্টারে লিপিবদ্ধ হয় ৬/৭টি গাড়ি। ক্যাভার্ড ভ্যানের চালক মনির হোসেন বলেন, ওজন স্কেলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অতিরিক্ত ওজন পরিবহনের অজুহাত দেখিয়ে চালকদের কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিতে চায়। এতে আমরা প্রতিবাদ করলে দায়িত্বরতরা আমাদেরকে মারধরসহ অশ্লীল ভাষায় গালাগালি শুরু করে।
অপরদিকে বারবার সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও সংকট নিরসনের কোন উদ্যোগ না নিয়ে কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাতনামা ২শত জনকে আসামি করে মামলা করার অভিযোগ উঠেছে।
টোল আদায়কারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ রবিউল হোসেন জানান, পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে স্কেলে দায়িত্বরত টোল আদায়কারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাই। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
তিনি আরো বলেন, গত ১৮ এপ্রিল শুক্রবার পরিবহন চালকদের তাণ্ডবে পুরো স্কেল অফিসের সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় এবং স্কেলের কার্যক্রম বন্ধ আছে। এ ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাতনামা ২শ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু