প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, মামলাকারীর ৫ বছর কারাদণ্ড

চরফ্যাশনে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে চাঁদা দাবির অভিযোগে মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেছেন বাদী নিজেই। মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত বাদী মফিজুল ইসলামকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। বুধবার চরফ্যাশন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শিবলি নোমান খান এই আদেশ দেন।
 
দণ্ডিত মফিজুল ইসলাম চরতোফাজ্জল গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদ ব্যাপারির ছেলে।
 
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০০৭ সনের ১২ জুলাই চরফ্যাশন থানায় ফরিদাবাদ গ্রামের আব্দুস সালামসহ ৫জনকে আসামি করে দণ্ডবিধির ৩৮৫ ও ৩৮৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন (যার নম্বর ১৯৫/২০০৭)। বিলম্বে দায়েরকৃত মামলার এজাহারে বাদী মফিজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, আসামিরা তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। আসামিদের চাঁদা দাবির কারণে ২০০১ সনের ২ সেপ্টেম্বর তারিখে বাদীর পরিবারের লোকজন আসামি আব্দুস সালামকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা প্রদান করেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় ঘটনার পর বাদী আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারেননি।
 
মামলাটির তদন্তে প্রকাশ পায় যে, বাদীর বর্ণিত ঘটনার তারিখে (২/০৯/২০০১) আসামি আব্দুস সালাম দুটি জিআর মামলায় ভোলা কারাগারে হাজতি হিসেবে বন্দী ছিলেন। বাদী মিথ্যা মামলা করায় থানা পুলিশ আদালতের অনুমতি নিয়ে ২০০৮ সালে বাদী মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারা অনুযায়ী চরফ্যাশন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নন এফআইআর ৯৪/০৮ নম্বর প্রসিকিউশন দাখিল করেন। যা আদালতের নন জিআর মামলা নম্বর ৯১/২০০৮।
 
বুধবার চরফ্যাশন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিবলী নোমান খান ওই মামলায় মফিজুল ইসলামকে দণ্ডাদেশ প্রদান করেছেন। রায় ঘোষণাকালে মফিজুল ইসলাম আদালতে অনুপস্থিত থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন। 
 
ইত্তেফাক/নূহু