সড়ক থেকে হাসপাতাল, অতপর আদালতের আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৮দিন পর এক মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগলি) কিশোরী ও তার নবজাতকের (পথশিশু) ঠাঁই হয়েছে ঢাকার মিরপুর সরকারি চাইল্ড হোমে।
আজ শনিবার বিকালে কুমিল্লা সমাজসেবা বিভাগের মাধ্যমে তাদেরকে ওই চাইল্ড হোমে হস্তান্তর করা হয়। এক পুলিশ কর্মকর্তার মানবিক সহায়তায় ফুটফুটে ওই শিশু দেখছে আলোর মুখ।
জানা যায়, কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ব্যস্ততম আমতলী, ময়নামতি ও আলেখারচর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন অজ্ঞাতনামা ওই কিশোরী বিচরণ করতো এবং যখন যেখানে স্থান পেতো সেখানেই রাত যাপন করতো। স্থানীয়রা তাকে ‘পাগলি’ বলেই ডাকে। গত ২৭ মে (রবিবার) বিকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার আমতলী এলাকায় মহাসড়কের পাশে ওই কিশোরীর চিৎকারে পথচারীদের জটলা সৃষ্টি হয়, তারা দেখতে পান ওই পাগলি সন্তান সম্ভ্যবা এবং সে প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছে। এ সময় স্থানীয় ৩-৪ জন নারী চেষ্টা চালিয়ে একটি কন্যা সন্তান প্রসব করাতে সক্ষম হন। কিন্তু জন্মের পর শিশুটি সড়কের ধুলাবালি ও ময়লা আবর্জনার মাঝে কাতরাচ্ছিল, পাশে নারী-ভূড়ি জড়িয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছে মা ও শিশু। খবর পেয়ে ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাম্বুলেন্স এনে স্থানীয়দের সহায়তায় নবজাতক ও তার মাকে নিয়ে ভর্তি করেন পার্শ্ববর্তী ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালে। সেই থেকে শনিবার (২ জুন) পর্যন্ত মা-শিশু ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি তাদের চিকিৎসাসহ সকল খরচ বহন করেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন মানবিকতার বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
ইন্সপেক্টর মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেন, একজন মানুষ হিসেবে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই কিশোরী ও তার নবজাতকের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। পাগল বা গরিব বলে যেন চিকিৎসার কোন ত্রুটি না হয় সেই ব্যবস্থা করেছি।
শনিবার রাত পৌণে ৮টায় সমাজসেবা অধিদপ্তর-কুমিল্লার উপ-পরিচালক (ডিডি) জেড. এম মিজানুর রহমান খান বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী আইনগত সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ওই শিশু ও তার মাকে শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা মিরপুর সরকারি চাইল্ড হোমে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কেউ শিশুটিকে দত্তক নিতে চাইলে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নেবেন।
ইত্তেফাক/এমআই