৩৬ বছর শিকলে বাঁধা জীবন

তাড়াশ উপজেলার জন্তিহার গ্রামের মানসিক প্রতিবন্ধী পিয়ারী খাতুন (৫২) দীর্ঘ ৩৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিকলে বাঁধা বন্ধি জীবন কাটাচ্ছেন। এভাবেই চলছে তার নাওয়া-খাওয়া থেকে শুরু করে সবকিছু।
 
মৃত নওসের আলীর মেয়ে পিয়ারী। ভাই আব্দুল খালেকের ঘরের সঙ্গে লাগানো ছোট্ট একটি টুপরি ঘরে তার বসবাস। লোহার শিকলে বাঁধা থেকেই তার গোসল, খাবার ও শৌচ কাজ করতে হয়। রাতের ঘুমও শিকল পরে।
 
আব্দুল খালেক ও তার স্ত্রী আমেনা খাতুন বলেন, জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী না হলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে পিয়ারীর মানসিক প্রতিবন্ধিতা বাড়তে থাকে। সেই সময় তাকে চিকিৎসা না করে বিয়ে দেন মা-বাবা। এতে তার অসুস্থতা বাড়তে থাকে। ৫-৬ মাস স্বামীর সংসার করার পর ফিরে আসেন বাবার বাড়িতে। সেই থেকে লোহার শিকলে বাঁধা পড়ে আছেন তিনি।
 
তারা আরো বলেন, একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামের একটি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে পিয়ারী খাতুন। ৮ বছর আগে বাবা আর বছর তিনেক ধরে মা মারা গেছেন। বর্তমানে দু’জনে মিলে তাদের প্রতিবন্ধী বোনটির দেখাশোনা করেন। প্রতিমাসে তার জন্য ৩ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। তাদের পরিবারের সদস্য ৬জন। উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি ও তার ছেলে আমিরুল ইসলাম। অথচ আজ পর্যন্ত তার বোনটির জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড বা স্থানীয়ভাবে কোন রকমের সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়নি কেউ।
 
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন বলেন, পিয়ারীর কথা তিনি এই প্রথম জানলেন। তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ে প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি