চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার 'মাদক সম্রাজ্ঞী' নামে পরিচিত মাদক ব্যবসায়ী মিনি বর্তমানে কোটিপতি। মিনি নব্বই দশকে তার প্রথম জীবনে রেলস্টেশনে থাকতো। এ সময় ভারত থেকে শাড়ী ও জিরা চোরাচালানীর মাধ্যমে আলমডাঙ্গায় এনে বিক্রি করে সংসার চালাতো। পঁচানব্বইর পর থেকে শাড়ী, জিরা ফেলে ফেন্সিডিলের চালান আনা শুরু করে মিনি। রঙিন এই নেশার সঙ্গে মিনি তার মাদক বাণিজ্যে পর্যায়ক্রমে যুক্ত করে ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা ও প্যাথেড্রিন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মাদকসেবীদের চাহিদানুযায়ী বাড়িতে বসেই মাদক সাপ্লাই দিয়ে এসেছে মিনির পরিবারের ১১ জন সদস্য।
উপজেলা ব্যাপী মাদক ব্যবসায় মিনির পরিবারের লোকেরা “ওরা ১১ জন” নামে পরিচিত। এদের প্রত্যকের নামের বিপরীতে ৮ থেকে ১২ টি করে মাদকের মামলা রয়েছে।
মিনির পরিবারের ১১ সদস্যের মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকা প্রসঙ্গে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জিহাদ খান ইত্তেফাককে জানান, ইতোমধ্যে মিনির মাদকের আঁখড়া ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। সবকিছু ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। পরিবারের অনেকেই জেলে রয়েছে। কেউ কেউ রয়েছে পলাতক। এদের আটকের জোর চেষ্টা চলছে।
এক পর্যায়ে মিনি রেলস্টেশনের প্লাটফর্ম থেকে নেমে রেলওয়ের একটি জমি বরাদ্দ নিয়ে প্রকাশ্যে গড়ে তোলে মাদকের আঁখড়া। এই বাড়িটিকে ঘিরে কলেজের ছাত্ররা ফেন্সিডিলের দিকে ঝুঁকে পড়তে থাকে। কিছুদিন পর স্কুল পড়ুয়া ছাত্ররাও ঝুঁকতে থাকে ফেন্সিডিলের প্রতি। এদের সঙ্গে যোগ দেয় স্কুল-কলেজের শিক্ষক, ডাক্তারসহ সব পেশার লোকজন। এরপর থেকে মিনি ও তার স্বামী আলাউদ্দিনকে আর পিছু ফিরে তাঁকাতে হয়নি। তরতর করে টাকার পাহাড় জমিয়ে তুলেছে। শহরে কোটি টাকা মূল্যের দোতলা বাড়ি কিনে ফেলে মিনি। পৌর এলাকার মাঠে কেনে কয়েক বিঘা আবাদি জমি।
মিনির মেয়ে কুটি ও তার স্বামী সামাদ ফেন্সিডিলের দিকটা সামলাতো চালাতো। মিনি তার মা ফাহিমা বেগমকে নিজের হাত খরচার জন্য ফেন্সিডিল ব্যবসার একটি ছোট অংশ দিয়ে দেয়। ফাহিমা বেগম ঘরের বারান্দায় বসে ফেন্সিডিল বিক্রি করতো। তার হাতে ছিল নিজস্ব কিছু ফেন্সিডিলসেবী।
মিনির মেয়ে মায়া ও তার স্বামী ওল্টুকে দেয়া হয় হেরোইনের ব্যবসা। অপর মেয়ে আলো ও তার স্বামী ওল্টু দেখাশেনা করতো গাঁজা ব্যবসার দিকটা। মিনির ছোট মেয়ে মুক্তা ও তার স্বামী রুবেল দেখাশোনা করতো ইয়াবা এবং প্যাথেড্রিন ব্যবসা।
মিনি ও তার স্বামী আলাউদ্দিন সরাসরি ভারত থেকে এসব মাদক দ্রব্যের চালান এনে বাড়িতে মাদকের সামাহার ঘটাতো। মাদক ব্যবসায়ায় মিনি তরতর করে বিপুল টাকার মালিক বনে যাওয়ায় তার আশপাশের আরো অনেক উৎসাহী মানুষ মাদক ব্যবসায় নিজেকে যুক্ত করে ফেলে। ক্রমান্বয়ে উপজেলাব্যাপী শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীর আত্মপ্রকাশ ঘটে। মাদক ব্যবসায়ী মিনির কারনে আলমডাঙ্গায় পুলিশের তালিকাভুক্ত কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক মাদকসেবী রয়েছে। এদের মাদক ছেড়ে আলোর পথে আনা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এই পরিবারগুলো মিনির মাদকের আগুনে দাউ দাউ করে জ্বলছে। ভেঙ্গে খান খান হয়ে গেছে অনেক পরিবার।
মিনি ও তার দুই মেয়ে এবং দুই জামাই মাস পাঁচেক ধরে জেলে। আলমডাঙ্গায় একটি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনার পর মিনির আইনজীবী তার পরিবারের সদস্যদের জামিনে বের করছেন না। কিন্ত মিনির স্বামী আলাউদ্দিন এক রহস্যময় কারনে এখনও আলমডাঙ্গায় রয়েছে। ১১ সদস্যর বাকিরা রয়েছে পলাতক।
ইত্তেফাক/নূহু