খুনি, শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের শক্ত ঘাটি সাভার

সাভার ও আশুলিয়া থানা এলাকাটি সন্ত্রাসী, খুনি, শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। আশুলিয়া থেকে গ্রেফতার হওয়া রাঙ্গামাটি জেলার বানিয়াচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা হত্যার প্রধান দুই আসামীসহ দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে অপরাধ কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে আসা অপরাধী, হত্যা মামলার টপ ওয়ান্টেড ফেরারি আসামি ও শীর্ষ সন্ত্রাসীরা তাদের আন্ডারগ্রাউন্ড হওয়ার নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে এ অঞ্চলকে।
 
এর ফলে এ উপজেলায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক দ্রব্য ব্যবসা ও হত্যাকাণ্ডসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জনগনের মাঝে চাপা আতংক দেখা দিয়েছে।
 
অভিজ্ঞ মহলের ধারনা পুলিশের নিস্ত্রিয়তা ও অপরাধ দমনের অনাগ্রহের কারনেই একের পর এক অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে। অবনতি হয়েছে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির। 
 
আদালত থেকে জারিকৃত গ্রেফতারি পরোয়ানা থানায় পড়ে থাকলেও তা তামিল হচ্ছে না। ফলে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে জানা যায়, রাজধানীর আগারগাঁও বস্তি থেকে উচ্ছেদকৃত সন্ত্রাসী এবং মাদক ব্যবসায়ীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অপরাধ করে পালিয়ে আসা সন্ত্রাসীরা সাভারের বিভিন্ন স্থানে বসতি স্থাপন করেছে। একই সাথে দেশের দক্ষিনাঞ্চল থেকে বিতাড়িত চরমপন্থি, জেএমবি এবং সর্বহারা দলের সদস্যরা বিভিন্ন লেবাসে সাভার উপশহরে এসে আস্তানা গেড়েছে। তারা এখানে এসে বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে এলাকা অশান্ত করে তুলছে।
 
গত শনিবার বিকেলে আশুলিয়ার বুড়ির বাজার এলাকার একটি বাসায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাঙ্গামাটি জেলার বানিয়াচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমার হত্যাকারী  রিপন চাকমা ও সুনীল ত্রিপুরাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পরপরই তারা রাঙ্গামাটি থেকে পালিয়ে আশুলিয়ায় এসে আত্মগোপনে ছিল।
 
সম্প্রতি উপজেলায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। এলাকায় বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে পুলিশের সামনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে সাভার উপজেলার একটি দুষ্টচক্র তাদের তৎপরতা শুরু করেছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই হচ্ছে অহরহ। দেশে মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হলে এখনও সাভারের শীর্ষ কোন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেতে পারেনি পুলিশ। অভিযানে অনেক শীর্ষ মাদক গডফাদার আত্মগোপনে থাকলেও তাদের মাদকের কারবার থেমে নেই। 
 
দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা এসব অপরাধীরা সাভার আশুলিয়ায় নতুন ও অপরিচিত হওয়ার কারণে থানায় তাদের নামে কোন মামলা বা অভিযোগও নেই। ফলে এসব আগন্তুক অপরাধীরা এখানে এসে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে ঘটিয়ে যাচ্ছে একের পর এক অধরাধ কর্মকাণ্ড। এতে আতংকিত হয়ে পড়েছে গোটা উপজেলা।
 
ইত্তেফাক/নূহু