ফুলবাড়ীয়ার সন্তোষপুর বনে চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে ৩ শতাধিক বানর। সরকারিভাবে বরাদ্দ না থাকা এবং মানুষের অত্যাচারে বন উজার হওয়ায় হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বনবিটের আশেপাশে গড়ে উঠা দোকানগুলো বানরের খাবারের একমাত্র উৎস।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সন্তোষপুর বনাঞ্চলটি এক সময় ছিল মধুপুর গড়াঞ্চলে লাঘুয়া। দিনের পর দিন মানুষের অত্যাচারে বন এখন খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত। পুরাতন কোন গাছপালা এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। এই বনে বানর ছাড়া কোন প্রাণি নেই বনে।
রোজা শুরু হওয়ার পর থেকে আগের মত পর্যটকরা এখন বনে বেড়াতে যায় না। সরকারিভাবে কোন বরাদ্দ না থাকায় চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে সন্তোষপুর বনের ৩ শতাধিক বানর। বিশেষ করে সদ্য মা হওয়া বানরগুলো খাদ্য সংকটে পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। সন্তোষপুর বিটের আশে পাশে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বানরগুলো ঘুরাফেরা করে। কোন গাড়ির শব্দ পেলে বা নতুন কোন পর্যটকের আগমন টের পেলে বানরগুলো দল বেঁধে তাদের সামনে জড়ো হয়। পর্যটকদের কিনে দেয়া খাবার এখন বানরগুলোর খাবারের একমাত্র উৎস।
সরকারিভাবে বরাদ্দ না থাকায় বন বিভাগ ও দোকানীরা চালের বস্তা কিনে খাবার দিয়ে থাকে। যা চাহিদার তুলনায় নাম মাত্র। এ খাবার বানরের পেট ভরে না। বানরগুলো যখন ক্ষুধার্ত থাকে তখন বানরগুলোর মুখ দিয়ে হুক হুক শব্দ বের হয়।
মঙ্গলবার সন্তোষপুর বনবিট পরিদর্শন করে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার বানরদের জন্য দেয়া হয়নি কোন খাবার। ওই দিন ছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। বানরগুলো একবার যাচ্ছে বনবিটে। আবার দৌড়ে চলে আসছে দোকান গুলোর সামনে।
সন্তোষপুর বনবিট কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, সরকারিভাবে বানরের জন্য আলাদা কোন বরাদ্দ নেই। আমরা নিজেরা চাল কিনে খাবারের ব্যবস্থা করে থাকি। এক সময় ভিজিএফ-ভিজিডির চাল দিতেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা। সে চাল বিতরণও এখন বন্ধ। প্রতিদিন সকালে বানরদের খাবার দেয়া হয়ে থাকে বলে জানান তিনি।
ইত্তেফাক/ইউবি