ঈদকে সামনে রেখে শিল্পনগরী সাভার ও আশুলিয়ায় শুরু হয়েছে নীরব চাঁদাবাজি। এ চাঁদাবাজিতে পাল্লা দিয়ে নেমেছে পুলিশ, পরিবহন সেক্টরের নামধারী শ্রমিক নেতা, রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ ও কতিপয় নামধারী সাংবাদিক চাঁদাবাজরা। এ রকম অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে ভুক্তভোগীদের।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কখনো ইফতার পার্টি বা ঈদ বোনাসের নামে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন গামেন্টস ফ্যাক্টরি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে চাঁদাবাজরা মোটা অংকের চাঁদাবাজিতে নেমেছে। এ চাঁদাবাজির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না বিভিন্ন সরকারী এবং আধা-সরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিরাও।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পোশাক কারখানার মালিক বলেন, ঈদকে সামনে রেখে কিছু কতিপয় অসাধু পুলিশ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ভূইফোঁড় শ্রমিক সংগঠন। তারা ঈদ বোনাসের নামে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করছে। গার্মেন্টস মালিকরা খুশি হয়ে ঈদ বোনাস হিসেবে তাদের কিছু সম্মানি দিলেও তাতে তারা সন্তুষ্ট হচ্ছেন না। দাবি করছেন মোটা অংকের টাকা।
একাধিক মালিক ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আমরা বকশিস হিসেবে আগতদের কিছু দিলেও তারা তা না নিয়ে উল্টো দাবি করছে মোটা অংকের টাকা। তাদের দাবিকৃত টাকা না দেওয়া হলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় গার্মেন্টস সেক্টরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ আভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
এদিকে পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে পরিবহন শ্রমিক নেতা নামধারী চাঁদাবাজ ও ট্রাফিক পুলিশরা। ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, বাইপাইল-উত্তরা সড়ক, নবীনগর-কালিয়াকৈর সড়ক, সাভার বাজার রোড, সিএন্ডবি, আশুলিয়াসহ বিভিন্ন সংযোগ সড়কে বেপরোয়া চাঁদা আদায় করছে ট্রাফিক পুলিশ ও চাঁদাবাজরা। থেমে নেই চাঁদাবাজি। একাধিক পরিবহন মালিকদের অভিযোগ, উত্তর ও দক্ষিনবঙ্গ থেকে আসা পন্য বোঝাই ট্রাক আটক করে হাইওয়ে পুলিশ প্রতি রাতেই মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
পুলিশের পাশাপাশি এসব চাঁদাবাজির নেপথ্যে রয়েছেন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও। প্রতিদিন এসব পরিবহন থেকে সর্বনিম্ন দশ টাকা থেকে শুরু করে মাসিক এক হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। আর ঈদ এলে তার মাত্র বেড়ে যায় কয়েক গুণ।
একাধিক ব্যবসায়ী জানান, হাইওয়ে পুলিশের দাবিকৃত টাকা না দিলে পণ্যবাহী ট্রাক আটক করে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানী করা হয়।
অপরদিকে ঈদ বোনাসে নামে রাজনৈতিক দলের কতিপয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় কতিপয় নামধারী সাংবাদিক ব্যাপক চাঁদাবাজিতে নেমেছে। তারা বিভিন্ন মিল কারখানা, হাউজিং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারী অফিস-আদালত ও ব্যবসায়ীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ঈদ বোনাসের নামে চাঁদা দাবি ও আদায় করছে।
সাভার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ আচার্য্য বলেন, চাঁদাবাজদের কোন পরিচয় নেই। তারা যে পরিচয়ধারীই হোক না কেন তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত।
ইত্তেফাক/নূহু