ছাতকে নির্মিত একটি ব্রিজ নিয়ে সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। শুধু একটি বাড়ির লোকজনের যাতায়াত সুবিধার জন্য এ ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে এলাকার লোকজন মন্তব্য করছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান জানান, ব্রিজ নির্মাণের জন্য এলাকা নির্ধারণের দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় এমপি।
তাদের অভিযোগ, ব্রিজ নির্মাণের নামে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের কয়েক লাখ টাকা আত্মসাত করাই ছিল এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। সম্প্রতি ওই ব্রিজটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিরূপ মন্তব্য করতে দেখা গেছে।
জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের ব্রিজ-কালভার্ট প্রকল্পের আওতায় উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের নাইওর মিয়ার বাড়ির রাস্তায় একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। ৩৪ ফুট দীর্ঘ ব্রিজটি নির্মাণ করতে সরকারের ২৭ লাখ ৫০হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।
ব্রিজ নির্মাণ কাজ শেষ করা হলেও উভয় পার্শ্বের এপ্রোচ রোড ভরাট না করেই তা হস্তান্তর করেন ঠিকাদার। গত বছরের ১২ জুলাই উপজেলার ইপিজিপি, কাবিটা ও ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন সুনামগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান। পরিদর্শনকালে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শহিদুজ্জামানসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, পরিদর্শনের পরের দিন ১৩ জুলাই অন্যান্য কাজের প্রতিবেদনের সঙ্গে ব্রিজের উভয় পার্শ্বের এপ্রোচ রোডের মাটি ভরাট করার জন্য সংশিষ্ট ঠিকাদারকে নির্দেশনা দেন মাহবুবুর রহমান। কিন্তু বছর গড়িয়ে গেলেও মাটি ভরাট করা হয়নি।
উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল জানান, সরকারের টাকা জনস্বার্থে ব্যবহার না হয়ে ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার হোক এটা কাম্য নয়। প্রকল্পের ব্রিজ নির্মাণের জন্য সাইড সিলেকশনে ছিলেন স্থানীয় এমপি। এখানে ব্রিজ নির্মাণে কতটুকু গুরুত্ব রয়েছে তা এলাকার সচেতন মহল বিবেচনা করবেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আম্বিয়া আহমদ জানান, ব্রিজটি আগের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সময়ে বাস্তবায়ন হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাও ব্রিজটি পরিদর্শন করেছেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি