কুমিল্লার অধিকাংশ সড়ক বেহাল সীমাহীন দুর্ভোগে যাত্রীরা

কুমিল্ল­া মহানগরসহ জেলার ১৭টি উপজেলার অধিকাংশ সড়কের নাজুক অবস্থা। কোনো কোনো সড়কে স্বাভাবিক চলাচলও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এসব সড়কের কোনোটি সংস্কারের একবছরের মধ্যে ফের বেহাল হয়ে পড়েছে, আবার কোনোটি একযুগেরও অধিক সময় ধরে সংস্কার কাজ করা হচ্ছে না। তবে জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কুমিল্লা-কোটবাড়ি সড়কে চলা দায় হয়ে পড়েছে। গর্ত আর খানাখন্দে ভরা এসব সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লাখো মানুষ।

জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের অধীন জেলার প্রায় সাড়ে পাঁচশ’ কিলোমিটার পাকা সড়কের অবস্থা একেবারেই নাজুক। কাঁচা-পাকা মিলিয়ে জেলার এক হাজার কিলোমিটারের অধিক সড়ক ভাঙাচুরা। বেহাল এসব সড়কের মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়কও রয়েছে। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ধর্মপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, শাসনগাছা-ধর্মপুর সড়কটির অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে নাজুক হয়ে আছে, শহরতলির এ সড়কে স্বাভাবিক চলাচলও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। দিনে-রাতে শত শত ছোট-বড় বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে, জরুরিভিত্তিতে সড়কের সংস্কার প্রয়োজন। এদিকে জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কুমিল্লা সদরের চাঁপাপুর এলাকা থেকে নগরীর টমছমব্রিজ হয়ে কোটবাড়ি সড়কটি চলাচলের জন্য অনেকটা অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এ সড়কের প্রায় সব স্থানের ইট-সুরকি উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে স্বাভাবিক চলাচল দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

গাড়ির চালক, যাত্রী ও পথচারীরা জানান, এসব গর্তে ট্রাক, ট্রাক্টর, সিএনজি, মাইক্রো ও প্রাইভেটকারসহ ছোট-বড় অনেক যানবাহন প্রায়ই আটকে যায়। সড়কের দৌলতপুর, ধনপুর এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই যানবাহন আটকে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) কুমিল্ল­ার নির্বাহী প্রকৌশলী সোহরাব আলী জানান, গ্রামীণ সড়কের উন্নয়নে চলমান প্রকল্পের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন স্থানে সংস্কার কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। আরো কিছু প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সড়কগুলোর সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে আশাকরি ভোগান্তি কেটে যাবে।

ইত্তেফাক/নূহু