কুমিল্লায় ছাত্রদলের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ৬

কুমিল্লায় ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয়পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৬ জন আহত হয়েছে। রবিবার দুপুরে কুমিল্লা মহানগরীর কান্দিরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় গ্রুপকে ছত্রভঙ্গ করে।
 
জানা যায়, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী আমিন-উর রশীদ ইয়াছিন সমর্থিতদের প্রাধান্য দেওয়া হয়। ওই দুই কমিটিতে দলের জেলা যুগ্ম সম্পাদক ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু সমর্থিতদের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে রাখা হয়নি। এ নিয়ে গত ৫ জুন কমিটি ঘোষণার পর থেকে দুই গ্রুপে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। কমিটিতে কাংখিত পদ না পাওয়ার ক্ষোভে বিএনপির জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে ১১জন তাদের পদ থেকে পদত্যাগ করে। পরে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করে।
 
এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এক পর্যায়ে মনিরুল হক সাক্কু সমর্থিত ছাত্রদলের ক্ষুব্দ নেতাকর্মীরা শনিবার সন্ধ্যায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। রবিবার দুপুরের দিকে নগরীর কান্দিরপাড়ে দলীয় কার্যালয়ের তালা ভাঙ্গার চেষ্টা করে প্রতিপক্ষের হাজী ইয়াছিন সমর্থিতরা। খবর পেয়ে মেয়র সাক্কুর অনুসারীরা তাদের ধাওয়া করে। এ সময় উভয় গ্রুপে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ৬ জন আহত হয়। তবে এ ঘটনায় ইয়াছিন ও সাক্কু গ্রুপের কেউ তাৎক্ষণিকভাবে বক্তব্য জানাতে রাজি হয়নি।
 
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, বিএনপি অফিস নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২১ রাউন্ড ফাকা গুলি বর্ষণ করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু