দৌলতদিয়ায় ৪ ভিক্ষুককে পূনর্বাসনের জন্য ৪লক্ষ টাকা প্রদান

'মরে যাবো, তাও আর ভিক্ষা করবো না। আমার একটা পা নাই। ভিক্ষা করতে গেলে মানুষের কত কথাই না শুনতে হয়। শুনে বুক ফেটে আসে। এর চেয়ে মরে যাওয়াও ভালো।' সোমবার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় ভিক্ষুক পূনর্বাসন অনুষ্ঠানে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে এমনটাই বলছিলেন প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক হালিম শেখ। তিনি দীর্ঘ ৬ মাস পূর্বে বে-সরকারি কর্মজীবী কল্যাণ সংস্থা (কেকেএস) এর সহযোগীতায় এ ভিক্ষাবৃত্তি ত্যাগ করেছেন।
 
তিনি আরো বলেন, ঘরে আমার দুই ছেলে। একজন ইন্টার পরীক্ষা দিয়েছে এবার। কেকেএস আমাকে ৬মাস আগে ১ লাখ টাকা দেয়। আমি ওই টাকা দিয়ে অটো রিক্সা,  ২টা ষাড় গরু কিনেছি। সব নিয়ে আমি আজ সমাজে মাথা উঁচু করে ভালোই আছি।
 
সোমবার সকালে বে-সরকারি কর্মজীবী কল্যাণ সংস্থা (কেকেএস) এর উদ্যোগে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর সহযোগীতায় কেকেএস প্রবীণ সামাজিক কেন্দ্রে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৪জন ভিক্ষুককে পূনর্বাসনের জন্য ৪ লাখ টাকার চেক প্রদান করে। 
 
রাজবাড়ী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও কেকেএস-এর নির্বাহী পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আব্দুল জব্বার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ও ভিক্ষুকদের মাঝে চেক প্রদান করেন।
 
দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক মনজু শেখ (৪৮), মো. ইউনুছ খাঁ (৬১), মোছা. বেদেনা বেগম ( ৪২) ও প্রবীণ ভিক্ষুক আহাম্মদ মন্ডল (৭৬) কে প্রত্যেকের হাতে ১ লাখ টাকার চেক তুলে দেন তিনি। 
 
চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজবাড়ী রেড ক্রিসেন্টের সহ-সভাপতি মহাসিন উদ্দিন বতু, দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আব্দুল গণি মণ্ডল, কেকেএস-এর সমৃদ্ধি কর্মসূচির প্রজেক্ট অর্ডিনেটর মো. শামছুল হক, মহিলা ইউপি সদস্য মোছা: রোকেয়া বেগম, সমাজ উন্নয়ন কর্মী মো. আমজাদ হোসেন, মো. মঞ্জুরুল আলম প্রমুখ।
 
উল্লেখ্য, রাজবাড়ীর বেসরকারি কর্মজীবী কল্যাণ সংস্থা (কেকেএস) দৌলতদিয়া ইউনিয়নে গত ৩ বছরে ১০জন ভিক্ষুককে পূনর্বাসনের জন্য প্রত্যেককে ১ লক্ষ টাকা করে প্রদান করেছেন।
 
ইত্তেফাক/নূহু