কুমিল্লায় সাবেক অধ্যক্ষের লাশ উদ্ধার

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এএসএম আবদুল ওহাব (৬০) এর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার ভোর রাতে কুমিল্লা নগরীর মনোহরপুর এলাকার কলেজ সংলগ্ন ভাড়া বাসার বাথরুমের শাওয়ার পাইপে গলায় বৈদ্যুতিক তারে ফাঁস লাগানো অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। স্বজনদের ধারণা তিনি হত্যা করে থাকতে পারেন। বাসা থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করেছে পুলিশ। 
 
তিনি জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার ২নং চৌয়ারা ইউনিয়নের হেমজোড়া গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক-ছাত্রী ও স্থানীয় এলাকার সকল মহলে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। 
 
পুলিশ ও পরিবারের লোকজন সূত্রে জানা যায়, আবদুল ওহাব (৬০) কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে ২০১৪ সালের ২ জুন থেকে ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন এবং এ কলেজ থেকে তিনি অবসরে যান। এরপর থেকে অবসরজনিত পেনশন, সম্পত্তিসহ বিভিন্ন কারণে তিনি মানসিকভাবে বেশ কিছুদিন ধরে বিপর্যস্ত ছিলেন। সোমবার সেহরির পরে যে কোন সময় তার ভাড়া বাসার বাথরুমে ঝর্ণার পাইপের সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। 
 
খবর পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ সময় পুলিশ বাসা থেকে অধ্যক্ষ ওহাবের হাতের লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করে। যাতে লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী আমার নসিব এবং আমার গরম মাথা ও অগোছালো কাজ’। 
 
ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার বিকালে স্বজনদের কাছে তাঁর লাশ হস্তান্তর করেছে পুলিশ। পরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও একমাত্র কন্যা সন্তান রেখে যান। 
 
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া পিপিএম জানান জানান, অধ্যক্ষ আবদুল ওহাবের স্বজনদের সাথে কথা বলে ও পারিপার্শ্বিক নানা বিষয় বিবেচনা করে ধারণা করা হচ্ছে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। মৃত্যুর আগে ওই অধ্যক্ষের লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 
 
ইত্তেফাক/কেআই