নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুইটি পরিবারের সংঘর্ষে অমেছা বেগম (৫০) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হন ৫জন।
বুধবার ইফতারের আগে উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের খামাতপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাত ৯টায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। অমেছা একই গ্রামের আবুল হোসেনের স্ত্রী।
পুলিশ জানায়, একই গ্রামের আব্দুল মজিদের মেয়ে পারভিনের সঙ্গে বিয়ে হয় জসিম উদ্দিনের ছেলে মাহফুজার রহমানের। তাদের ঘরে তিন সন্তান রয়েছে ও পারভিন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
ঘটনার সময় ওই ইউনিয়নের ঝলঝলিয়া পাড়া গ্রামের সাইদুর রহমানের স্ত্রী মোমে বেগম তার ভাই মাহফুজার রহমানের বাড়িতে আসেন কাঁচা মরিচ বিক্রির টাকা নিতে। এ সময় মাহফুজার তার স্ত্রী পারভিনকে ২০০ টাকা দিতে বলেন। এতে পারভিন তার ননদকে ২০০ টাকা বের করে দিলে তিনি কম টাকা নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।
পরে পারভিন তার স্বামীকে বলেন, 'তোমার বোন দুইশত টাকা নিবে না। তুমি নিজ হাতে তোমার বোনকে টাকা দাও।'
এই কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে মাহফুজার আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী পারভিনকে বেধরক পেটাতে থাকলে গুরুত্বর আহত হন পারভিন। খবর পেয়ে গ্রামের পাশেই পারভিনের বাবার বাড়ির লোকজন ছুটে আসে মাহফুজারের বাড়িতে। পারভিনকে মারপিট করার ঘটনায় তারা প্রতিবাদ করে। পরে দুই পরিবারের মধ্যে সংর্ঘষ বেঁধে যায়। এতে ঘটনাস্থলে পারভিনের চাচি অমেজা বেগম (৫০) নিহত হন।
আহত হন পারভিনের চাচা আব্দুল মান্নান (৫৫),পারভিনের ভাই আব্দুল মতিন (৪৫) পারভিনের ভাবি আফরোজা বেগম (৩৪)। পারভিনসহ মোট চারজনকে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। বাড়ির সকল পুরুষ মানুষ পালিয়ে গেলে পুলিশ মাহফুজারের বোন ইদ্রিস আলীর স্ত্রী আলেয়া (৫২) ও চাচাতো ভাই আবু বক্করের স্ত্রী ঝুল্লি বেগমকে (৩৮) আটক করে।
কিশোরগঞ্জ থানার ওসি হারুন অর রশীদ জানান, রাত ৯টায় লাশ উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়েছে। এ সময় দুই নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
ইত্তেফাক/আরকেজি