আগের সব বিশ্বকাপে বল কুড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব পালন করেছে কেবল ছেলেরা। তবে এবার সেই কাজটি করবে মেয়েরাও। ম্যাচ চলাকালীন সময়ে বল সরবরাহ করবে। আবার বাইরে চলে গেলে কুড়িয়ে দেবে। এসব মেয়েদের বলা হচ্ছে বল গার্ল বা বল বালিকা।
আগের সব বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এটি করতেন কোন ক্লাবের শিক্ষানবিশ জুনিয়র ফুটবলাররা। সেই প্রথা ভেঙ্গে প্রথমবার এ দায়িত্বে দেখা যাবে মেয়েদের। এবার তা করে দেখাবেন এক নারী ফুটবল দল।
আজ মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক রাশিয়া ও সৌদি আরব। এই ম্যাচে ‘বল গার্ল’ হিসেবে দেখা যাবে আগরিয়াজ ক্লাবের মেয়েদের।
কিছুদিন আগে রাশিয়ার অপেশাদার ১৩-১৬ বছরের নারী ফুটবল দলের একটি প্রতিযোগিতা হয়। এর শর্ত ছিল বিজয়ী দল পুরস্কার ছাড়াও বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ‘বল গার্ল’ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এতে বিজয়ীর মুকুট পরে তাঁতারস্থানের আগরিয়াজ ক্লাব। ক্লাবেরকোচ ইলদার ইদিয়াতভ বলেন, ‘এটা আমাদের মেয়েদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। আশা করছি মেয়েরা উত্সাহিত হবে।’
আগরিয়াজের নারী দলটি স্বাভাবিকভাবেই শিহরিত। দলটির অধিনায়িকা উলিয়া সোস্তোভা জানান, প্রত্যেকেই একটা ঘোরে আচ্ছন্ন রয়েছি। যে আবেগ আমাদের ছুঁয়ে গেছে সেটা অবিশ্বাস্য। যে কোনও ফুটবলারের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হল বিশ্বকাপে উপস্থিত থাকতে পারা। আমরা বাকরুদ্ধ।
বল গার্লদের একজন দারিয়া ভ্যাসিলেভা বলেন, ‘নারীরা যৌনতার প্রতি আসক্ত নয়, তারা পুরুষদের সাথেও প্রতিযোগিতা করতে পারে। বিশ্বকাপে আমরা সবাই এক হয়ে কাজ করবো। দ্রুততার সঙ্গে খেলোয়াড়দের কাছে বল পৌঁছে দিব।’
জানা গেছে, বিশ্বকাপ পরিচালনা কমিটি ৭৭৬ জন বাছাই করে নিয়েছেন, যারা বিশ্বকাপের সময় বল বয় এবং বল গার্ল হিসেবে কাজ করবে। বিশ্বকাপের মোট ৬৪টি ম্যাচে দেখা যাবে তাদের। তবে এবারই প্রথম উদ্বোধনী ম্যাচে ১৪ জন বল গার্ল সুযোগ পেলেন।