হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়ক বেহাল পার্শ্ব রাস্তাটিও চলাচলের অনুপযোগী

হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের তাড়াশ অংশের খালকুলা বাজার থেকে চরহামকুরিয়া এলাকা পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার বেহাল। কোথাও সুরকি উঠে গেছে, কোথাও খানাখন্দ। যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রী ও চালকেরা। মহাসড়কটির পার্শ্ব রাস্তার চিত্র আরো করুণ। এ পথে শুধু খানাখন্দই নয়, মাঝে-মধ্যে রাস্তার অর্ধেক চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে মূল সড়ক ও পার্শ্ব রাস্তা নাজুক হওয়ায় বাড়ছে দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কটির তাড়াশ অংশে ছোট-ছোট শ’ শ’ গর্ত। ফুলে-ফেঁপে ঢিবি হয়েছে বেশ কিছু স্থানে। মাসখানেক আগে বড় গর্তগুলোতে ইট দিয়ে সোলিং করা হয়। ওই সব জায়গার কোথাও কোথাও পুনরায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আর যেখানে গর্ত নেই, সেই জায়গাগুলো এব্রো-থেব্রো হয়ে আছে। যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী যান পার হচ্ছে হেলেদুলে। দ্রুতগামী কিছু যানবাহন ট্রাফিক আইন অমান্য করে সড়কটির এপাশ-ওপাশের যেদিক একটু ভালো দেখছেন সেদিক দিয়েই চলাচল করছেন। থেমে থেমে হচ্ছে যানজট।

মূল সড়কের সাথে ধীরগতির যান চলাচলের পার্শ্বরাস্তাটিও একেবারে বিধ্বস্ত। এই পথেও ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে থাকছে। আর পানি শুকালে কর্দমাক্ত থাকছে। ১১ কিলোমিটারের মধ্যে কমপক্ষে ১০ থেকে একটি স্থানে প্রায় অর্ধেক করে পাকা রাস্তা ধসে চলনবিলে বিলীন হয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ এ পার্শ্ব্ব রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সিএনজি, ভটভটি, নছিমন, করিমনসহ ধীরগতির যানবাহনগুলো বাধ্য হয়ে মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করছে।

রহিম উদ্দিন, কাজেম আলী, সালাউদ্দিন, মমিন সরকার, চাঁদ আলী, মাসুদ রানা, আব্দুল মজিদসহ বেশ কয়েকজন বাস-ট্রাকের চালক বলেন, হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার-হাজার যানবাহন চলাচল করে থাকে। প্রায় দুই বছর হয়ে গেল সড়কটির বেহাল অবস্থা। মাঝে-মধ্যে সংস্কার করা হলেও তেমন একটা কাজে আসছে না। বেহাল সড়কে গাড়ির স্টিয়ারিং ঠিক রাখা যায় না। সঠিক সময়ে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সড়কে দেরি হওয়ায় কাঁচামাল অনেক সময় ট্রাকের মধ্যেই পচন ধরে যায়। পার্শ্ব রাস্তার যানবাহনগুলো মহাসড়কে উঠে আসায় যানবাহন চলাচলে সমস্যা আরো প্রকট হচ্ছে। দিগবিদিক না দেখে এদিক সেদিক দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন চালকরা। ফলে মাঝে-মধ্যেই ঘটছে প্রাণহানীর মত বড় দুর্ঘটনা। যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়ার সাথে সাথে ঈদ যাত্রায় ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তিও বাড়ছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ডা. মোহাম্মাদ আহাদ উল্লাহ বলেন, পিএমপিতে আবেদন দেওয়া হয়েছে। আগামী বছর থেকে হয়তোবা হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের সংস্কার কাজ শুরু হবে। পার্শ্ব রাস্তাটি একনেকের সভায় অনুমোদনের চেষ্টা চলছে।

ইত্তেফাক/নূহু