কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে ঈদের জামাত শুরু হবে সকাল ১০টায়। এবছর অনুষ্ঠিত হবে ঈদুল ফিতরের ১৯১তম জামাত। দেশের বড় ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয় এই ঈদগাহে। তিন লক্ষাধিক মুসল্লি এই ঈদগাহে নামাজ আদায় করে থাকেন।
দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা থেকে মুসল্লিরা এসে শোলাকিয়া ঈদগাহে নামাজ আদায় করেন। দুই-তিনদিন আগে থেকেই মুসল্লিরা ট্রেন-বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে জেলা শহরে আসা শুরু করেন। তারা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে, হোটেলে কিংবা জেলা শহর ও আশেপাশের বিভিন্ন মসজিদে এসে অবস্থান গ্রহণ করেন। ঈদের আগে ও পরে কয়েকদিনের জন্য জেলা শহরটি যেন উৎসবের শহরে পরিণত হয়। ঈদের দিন সকালে বাংলাদেশ রেলওয়ে মুসল্লিদের আনা-নেয়ার জন্য ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মুসল্লিদের স্বাগত জানাতে শহর থেকে ঈদগাহগামী সড়কে নির্মাণ করা হয় অসংখ্য তোরণ। নামাজ শুরুর আগে তিনবার বন্দুকের ফাঁকা গুলি ছুড়ে মাঠে অবস্থানরত মুসল্লিদের নামাজের প্রস্তুতি গ্রহণে জন্য সতর্ক সংকেত দেয়া হয়।
এবছরও জামাতে ইমামতি, খুতবা ও দোয়া পাঠ করবেন বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক, বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ এবং ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ।
ইতিমধ্যে শোলাকিয়া ঈদগাহে সুষ্ঠুভাবে নামাজ আদায়ের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি, কিশোরগঞ্জ পৌরসভা ও জেলা প্রশাসন মাঠকে নামাজ আদায়ের উপযোগী এবং সৌন্দর্য্যের কাজ শেষ করেছে। মুসল্লিদের জন্য স্থায়ী ওজুখানা ছাড়াও অস্থায়ী ওজুখানা নির্মাণ ও পানীয় জলের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মাঠে আগত মুসল্লিদের তাক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা দিতে সকাল থেকেই একটি মেডিকেল টিম নিয়োজিত থাকবে।
এদিকে জেলা পুলিশ প্রশাসন মুসল্লিদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ২০১৬ সালের জঙ্গি হামলার ঘটনাকে মাথায় রেখে গ্রহণ করা হয়েছে চার স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য ছাড়াও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, র্যাব, বিজিবি নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। তাছাড়াও সাদা পোশাকে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন দায়িত্ব পালন করবে। মাঠের বিভিন্ন প্রবেশপথে আর্চওয়ে থাকবে। মাঠে ও মাঠের বাইরে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। মাঠে নির্মাণ করা হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। মাঠে প্রবেশের আগেই বিভিন্ন চেকপোস্টে মুসল্লিদের মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করা হবে। এই প্রথমবারের মতো ঈদুল ফিতরের জামাতের নিরাপত্তায় যুক্ত হচ্ছে ড্রোন। তিনটি শক্তিশালী ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে ঈদগাহ ও এর আশেপাশের এলাকা নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হবে।
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী ও পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ জানান, মুসল্লিদের সুষ্ঠুভাবে নামাজ আদায়ের সার্বিক ব্যবস্থাগ্রহণ এবং তাদের জন্য নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি