গোমতীর ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে বৃহত্তর দাউদকান্দির বিভিন্ন এলাকা

উজানের ঢলের পানির চাপে গোমতী নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে বৃহত্তর দাউদকান্দির কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। দাউদকান্দি উপজেলার খোশকান্দি, চরমাহমুদ্দী পাচানী, লক্ষ্মীপুর, তিতাস উপজেলার নারান্দিয়া, আসমানীয়সহ বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি এবং জায়গা-জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
 
ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে গোমতী নদীর ডান তীরে তিতাস উপজেলার নারান্দিয়া পশ্চিম পাড়, বালুয়াকান্দি এবং বামতীরে নারান্দিয়া পূর্বপাড় ও আসমানিয়া বাজার তীর এলাকা। বর্ষা মৌসুমে গোমতী নদীর স্রোত বেড়ে যাওয়ায় ভাঙ্গন আতঙ্কে এসব এলাকার নদীপাড়ের লোকজন বিনিদ্র রজনী কাটাচ্ছে। অনেকে ঘরবাড়ি সরাতে শুরু করেছে এবং অনেকের ঘরবাড়ি ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছে নদীপাড়ের পরিবারগুলো। আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে শত শত মানুষ।
 
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে এ বছর ৫০ থেকে ৬০টি ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদসহ অনেক স্থাপনা ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। শিগগিরই কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে এবং বাস্তুহারা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়বে বলে মনে করছেন জনপ্রতিনিধি এবং এলকাবাসী।
 
এ বিষয়ে নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার সালাউদ্দীন আহম্মেদ বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের বেশ কয়টি এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। নদীগর্ভে মানুষের সহায় সম্পদ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাবর কয়েকবার আমরা আবেদন জানিয়েছি কিন্তু এখনও কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না। নদী গর্ভে বাড়ীঘর হারিয়ে বাস্তুহারা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।’
 
ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দীন বলেন, ‘প্রতিবছর কার্তিক মাসে এবং জৈষ্ঠ্য আষাঢ় মাসে গোমতী নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।’
 
চরমাহমুদ্দী ওয়ার্ডের মেম্বার ফজলু মিয়া বলেন, ‘গোমতী নদীর ভাঙন রোধ করা না গেলে লালপুর- গৌরীপুর সড়ক নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।’
 
কুমিল্লার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলির মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
 
ইত্তেফাক/নূহু