মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসছে সর্বনাশা নেশার ট্যাবলেট ইয়াবা। কক্সবাজারের উখিয়া, টেকনাফসহ বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে দেশে ঢুকছে ইয়াবা। পাচারের অন্যতম পথ হিসেবে ব্যবহ্নত হচ্ছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক।
মিয়ানমারের মাফিয়াচক্র দেশীয় শক্তিশালী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইয়াবা পাচার করছে। দেশীয় চোরাচালানী ও প্রভাবশালীরা নিত্যনতুন কৌশলে তা ছড়িয়ে দিচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ে।
বিভিন্ন সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশে ইয়াবা ট্যাবলেটের এতো বেশী চাহিদা যে, মিয়ানমারের বিভিন্ন স্থানে বহু ইয়াবা কারখানা গড়ে উঠেছে। মিয়ানমারের এসব কারখানায় উৎপাদিত বেশীরভাগ কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে। সড়ক পথে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান। তারপরও চোরাচালানকারীরা রুট পরিবর্তন করে ইয়াবা পাচার করছে।
নীল, লাল রংসহ বিভিন্ন রংয়ের ছোট প্যাকেটে ২শটি ট্যাবলেট প্যাকেটজাত করে পাচার হয়। প্রতি পিস ট্যাবলেটের দাম স্থানভেদে ২০০-৫০০ টাকা। এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রভাবশালীরা। ইয়াবা পাচারে ব্যবহার করা হচ্ছে রোহিঙ্গা এবং দেশের যুবসমাজ, অভাবী নারী-পুরুষ ও শিশুদের। পাচারকারীরা কখনো যাত্রীবেশে কখনো চালকের আসনে কখনো ভিক্ষুক-প্রতিবন্ধী ও সুফি সেজে পাচার করছে।
কক্সবাজার থেকে প্রাইভেট গাড়ি, হাইয়েচ মাইক্রোবাস, দূরপাল্লার বাস, এ্যাম্বুলেন্স ও মালবাহী ট্রাকের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। সম্প্রতি লোহাগাড়ায় মুড়ির ভিতর, ফলের ঝুঁড়ির ভিতর এবং মহিলাদের পেটে বাধা অবস্থায় ইয়াবা ধরেছে পুলিশ। উপজেলার চুনতি খানদিঘী এলাকায় পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে পাচারকারীসহ ইয়াবা ট্যাবলেট আটক করেছে।
লোহাগাড়া থানা সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাসে এ উপজেলায় প্রায় দেড় লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। শুধু এপ্রিল ও মে মাসে ধরা পড়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৭০৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট। এছাড়া এপ্রিল মাসে ১৪০ লিটার ও মে মাসে ২৪৫ লিটার মদ
পুলিশ আটক করতে সক্ষম হয়েছে। আর এ দুই মাসে ৪৫ টি মামলা ও ৬৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
এ ব্যাপারে লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিনিয়ত উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে ইয়াবা বহনকারীদের
ধরা হচ্ছে। ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্যের ব্যাপারে লোহাগাড়া পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স। ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
ইত্তেফাক/নূহু