মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোণ ইউনিয়নের উদনারপাড় এলাকায় সড়ক ধসে শহরের সঙ্গে ১০ গ্রামের যান যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের।
ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বয়ে আসা উদনা ছড়ার পাড় ভেঙে গতিপথ হারিয়ে গ্রামের ভেতর প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করে শহরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান রাস্তাটি ধসে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। এতে উজনারপাড় গ্রাম ও আশপাশের মতিগঞ্জ, নওয়াগাঁও, কাজিরগাও, রসুলপুর, ডোবাগাঁও, জিলাদপুরসহ ১০ গ্রামের বাসিন্দারা পড়েছেন বিপাকে।
গতকাল ২১ জুন বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, শ্রীমঙ্গল থেকে মতিগঞ্জ হয়ে ভূজপুর যাওয়ার পথে আশিদ্রোণ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড এলাকা উদনারপার গ্রামের প্রধান সড়কটির মধ্যভাগ বরাবর প্রায় ১২ ফুট জায়গা জুড়ে ভেঙে গেছে। ফলে পথ ও যান চলাচলে অচলাবস্থা দেখা দেয়।
অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতিতে এ রাস্তায় মারাত্মক ভোগান্তি নিয়ে গ্রামবাসীরা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য লিটন মিয়া ও এলাকাবাসী মিলে স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রামবাসীদের চলাচলের সুবিধা করে দেওয়ার লক্ষ্যে ভাঙ্গার পাশ ঘেঁষে মাটির বস্তা ফেলে পায়ে চলার রাস্তা তৈরি করে দিয়েছেন।
এলাকাবাসী সুরঞ্জিত সুত্রধর, রঞ্জিত মালাকার, রফিক মিয়া, আনোয়ার হোসেন, মনির মিয়াসহ অনেকে জানায়, এই স্থানে পূর্বে একটি পাকা ব্রিজ ছিল। কয়েক বছর আগে একই ঘটনায় এখানে পানি উঠে গিয়ে ব্রিজটি ধসে পড়ে। তারপর থেকে এখানে মাটি ভরাট করে সরাসরি রাস্তা নির্মাণ করা হয়। এ বছর ঈদুল ফিতরের আগের দিন গত ১৫ জুন শুক্রবার উদনাছড়ার পানি বেড়ে গিয়ে গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রবল বেগে প্রবাহিত হতে থাকে। ফলে রাস্তাটিতে বড় আকারের ভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়া রাস্তা মেরামত ও সংস্কারের জন্য বছর বছর এ সড়কে কাজ করা হলেও ঠিকাদারদের দুর্নীতি ও টেকসই কাজের অভাবে কিছুদিন পর সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় অনেক ধরণের ভাঙন দেখা দেয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে আছিদ ঊল্লাহ্ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পান্না লাল বর্ধন বলেন, রাস্তা ধসের কারণে ইউনিয়নের দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুল, মাদ্রাসা, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মানুষের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। ভাঙনের ফলে এ রাস্তা দিয়ে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
এলাকাবাসী রাজমিস্ত্রি মহিবুর রহমান, সিএনজি চালক নুরুল হক, আশিষ দেব জানান, সিএনজিতে করে ২০ টাকা ভাড়ায় মাত্র ৭/৮ কিলোমিটারের রাস্তা পেরিয়ে ভূজপুর থেকে উদনারপাড় হয়ে শ্রীমঙ্গল শহরে যেতে তাদের সময় লাগতো ১০ থেকে ১৫ মিনিট। রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় এখন তারা সিন্দুরখান-সাতগাঁও ও ভূনবীর এই তিন ইউনিয়নের রাস্তা পেরিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ৬০ টাকা ভাড়ায় শহরে আসছেন। তাতে এখন তাদের সময় লাগে আধা ঘন্টা থেকে ৪০ মিনিট।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকৌশলী সঞ্জয় মোহন সরকার বলেন, আমরা এই ভাঙন এলাকায় কালভার্ট নির্মাণের জন্য আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। এখন আপাতত চলাচলের জন্য উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সাময়িক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আশিদ্রোণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রণেন্দ্রপ্রসাদ বর্ধন জহর বলেন, আমি ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। দূর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমাদের শ্রমিকরা আগামীকাল থেকে কাজে নামবে। আশা করি দ্রুত দুর্ভোগ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
ইত্তেফাক/নূহু