রংপুরের পীরগাছায় এক সংখ্যালঘু নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার সময় লিঙ্গ কর্তন ও মামলা দায়েরের জেরে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ওই নারীর মাথার চুল কেটে দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ ঘটনায় সাতজনের নামে থানায় মামলা হয়েছে। তিনজনকে আটক করে হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার বীরণারায়ণ গ্রামের সামছুল মিস্ত্রী ও তার লোকজন পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রাস্তা থেকে এক সংখ্যালঘু নারী (৪৫) ও তার কন্যাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে ওই নারী ও তার কন্যাকে শারীরিক নির্যাতন করে হাত, পা বেঁধে রাখে। এ সময় সামছুল, তার স্ত্রী, কন্যা, জামাতা ও বাড়ির লোকজন মিলে সংখ্যালঘু নারীর মাথার চুল কেটে দেয়।
এ ঘটনার পুলিশ খবর পেয়ে রাত ১০দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে সেখানেই মা ও মেয়ের চিকিৎসা চলছে।
পুলিশ ও মামলার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার বীরণারায়ণ গ্রামে মৃত আরফান মিয়ার ছেলে সামছুল মিস্ত্রী দীর্ঘদিন থেকে পাশের বাড়ির স্বামী পরিত্যক্তা এক সংখ্যালঘু নারীকে উত্যক্ত করে আসছিল। গত ২০১৩ সালে সামছুল মিয়া ওই সংখ্যালঘু নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার সময় ধারালো ব্লেড দিয়ে সংখ্যালঘু নারী সামছুলের লিঙ্গ কেটে দেয়। এ ঘটনায় ওই সময়ে একটি মামলাও দায়ের করেন সংখ্যালঘু ওই নারী।
এর জের ধরে গতকাল সন্ধ্যায় সামছুলের বাড়ির সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে সংখ্যালঘু নারী ও তার কন্যা বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সামছুল ও তার লোকজন মা ও মেয়েকে জোর পূর্বক সামছুলের বাড়িতে নিয়ে যায়। এসময় ২ জনকেই নির্যাতন করার পর মায়ের চুল কেটে দেয়।
এ ঘটনায় সংখ্যালঘু নারী বাদী হয়ে সামছুল মিস্ত্রী তার দুই কন্যা এক ছেলে, স্ত্রী ও জামাতাসহ সাতজনের নামে পীরগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুুলিশ সামছুলের দুই মেয়ে সেলিনা ও পিয়ার বেগম এবং ছেলে সুজন মিয়াকে আটক করেছে। তাদের আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে হাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন নির্যাতিতা নারীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি অসুস্থতার জন্য কথা বলতে রাজি হননি।
পীরগাছা থানার ওসি সরেস চন্দ্র জানান, এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। নির্যাতীতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু