আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার অনশন

রংপুরের মিঠাপুকুরে এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন প্রেমিকা। প্রেমিকা অনশন করায় ইতোমধ্যে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে ওই আওয়ামী লীগ নেতা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মিলনপুর ইউনিয়নের তরফসাদী গ্রামে। আওয়ামী লীগের ওই নেতা হলেন, মিলনপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রমজান আলীর ছেলে মাসুদ রানা। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, তরফসাদী গ্রামের রমজান আলীর ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদ রানা প্রায় ৪ বছর ধরে পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন প্রতিবেশি বাদল মিয়ার স্ত্রীর সঙ্গে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ লেগে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ঈদুল ফিতরের আগের দিন ওই প্রেমিকা রাতে মাসুদ রানার বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেন।

তারপর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় আওয়ামী লীগ নেতা প্রেমিক মাসুদ রানা। বিয়ের দাবিতে অনশন করা ওই প্রেমিকা বলেন, আমার স্বামীর বন্ধু হওয়ায় মাসুদ রানা প্রায় ৪ বছর ধরে নিয়মিত আমাদের বাড়িতে যাওয়া আসা করত। এরপরই সে আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। তখন থেকেই সে নিয়মিত আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখত, যাওয়া আসা করত বাড়িতে। ইতোমধ্যে আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সর্ম্পক গড়েছিলাম। কিন্তু, সম্প্রতি তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে সে প্রত্যাখ্যান করে।

প্রেমিক মাসুদ রানার মা রাহিনা বেগম ও বোন ছবি বেগম বলেন, তাদের প্রেমের সর্ম্পকের বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। মেয়েটি আসার পর মাসুদ বাড়ি থেকে চলে গেছে।

ওই প্রেমিকার স্বজনেরা অভিযোগ করে বলেন, মেয়েটিকে ফুঁসলিয়ে বিয়ের প্রলোভনে দিনের পর দিন শারিরীক সর্ম্পক করেছে মাসুদ। এখন বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রতিবেশি জানান, তাদের পরকীয়া প্রেম, বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িকে প্রেমিকার অবস্থান নিয়ে গ্রামবাসী বিব্রত। বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান হওয়া দরকার।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, মাসুদ রানার এই ঘটনাটি তার ব্যক্তিগত। দল কখনই এর দায়ভার নেবে না। আমরা মাসুদ রানার কঠোর শাস্তির দাবি করছি।

মিঠাপুকুর থানার ওসি মোজম্মেল হক বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ইত্তেফাক/নূহু