‘উই শ্যাল ওভার কাম’ গান গেয়ে যশোরে বিশ্ব সংগীত দিবসের কর্মসূচী আনন্দ শোভাযাত্রায় পুলিশ বাঁধা দিয়েছে। ‘অনুমতি না থাকা’র অজুহাতে পুলিশ কালেক্টরেট স্কুলের সামনে শোভাযাত্রাটি আটকে দেয়। সংগীত শিল্পী ও সংস্কৃতিসেবীরা পুলিশের বাঁধাকে উপেক্ষা করে শোভাযাত্রাটির নির্ধারিত গন্তব্যের অতিরিক্ত পথ হেঁটে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হন।
সংস্কৃতিকর্মীরা জানান, দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গন থেকে শোভাযাত্রা বের করে। শোভযাত্রার সামনে ৭ বছরের শিশুশিল্পী থেকে ৬৫ বছরের প্রবীণ শিল্পীরাও ছিলেন। এটি কালেক্টরেট স্কুলের সামনে পৌঁছুলে কোতোয়ালী থানার এএসআই আজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শোভাযাত্রাকে থামিয়ে দেয় এবং অনুমতি না থাকার অজুহাতে শোভাযাত্রাটি পণ্ড করে দিতে উদ্যত হয়।
এ সময় সংস্কৃতিকর্মীরা তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং মাত্র ২শ’ গজ দূরে টাউন হল ময়দানে শেষ করার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচীর ব্যাপ্তি বাড়িয়ে চিত্রা মোড় পর্যন্ত যান। সেখানে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ডিএম শাহীদুজ্জামান এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলু পুলিশি বাঁধার তীব্র নিন্দা জানান।
এ সময় এএসআই আজহারুল ইসলামের পুলিশের ইউনিফর্ম পরা থাকলেও নেমপ্লেট না থাকার বেআইনি ব্যাপারে এ প্রতিবেদক দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘ধস্তাধস্তি করতে যেয়ে নেমপ্লেট ছিঁড়ে গেছে।’
কোতোয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) আবুল বাশার মিয়া মোবাইলে ইত্তেফাককে বলেন, আসলে শোভাযাত্রা দেখে ‘পুলিশ হতভম্ব’ হয়ে পড়েছিল। নেমপ্লেট না থাকা এবং পুলিশের সঙ্গে কবে কোথায় কাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানেন না বলে জানান।
উল্লেখ্য, আয়োজক প্রতিষ্ঠানের একটি জেলা শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি পদাধিকার বলে জেলা প্রশাসক। আর ‘বিশ্ব ভরে উঠুক মানবতার জয়গানে’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১১০টি দেশে বৃহস্পতিবার বিশ্ব সংগীত দিবস পালিত হয়।
ইত্তেফাক/নূহু