‘সুফিয়া কামালকে অনুসরণ করলে সমাজ আলোকিত হবে’

জননী সাহসিকা সুফিয়া কামালকে স্মরণ করলো শিশু-কিশোররা। গত ২০ জুন ছিল জননী সাহসিকা এই মহীয়সী নারীর ১০৮তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে কচি-কাঁচার আসর আয়োজন করেছিল আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। 
 
শুক্রবার সকালে সেগুন বাগিচার কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা ভবনে এই জন্মোৎসবের আয়োজন হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মেলার ট্রান্টি বোর্ডের সদস্য কবির মেয়ে সুলতানা কামাল। অতিথি ছিলেন মেলার সভাপতি খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, সহ-সভাপতি শিল্পী আবুল বারক আলভী ও দিল মনোয়ারা মনু, প্রবীণ সদস্য শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ। শিশু সদস্য ইসরাত জাহান দিবার সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখে শিশু বক্তা রাজ্যশ্রী সাহা। 
 
সুলতানা কামাল বলেন, ‘মানুষ শুধু নিজের কথা ভাবছে, সামষ্টিক চিন্তা করছে না। অথচ সুফিয়া কামালের সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মানুষ। শিশুদের অভিভাবকের কাছে অনুরোধ আপনারা আপনাদের সন্তানদের মধ্যে সামষ্টিক চিন্তার শিক্ষা দিন তাহলে সমাজের সকল অন্ধকার দূর হবে; সাম্প্রদায়িকতা, নারী পুরুষের ভেদাভেদ কিছুই তখন আর থাকবে না।’ 
 
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘সুফিয়া কামাল সমাজ আন্দোলন, মনুষ্যত্বের আন্দোলনের পথিকৃৎ। কুপমণ্ডতা, কুসংস্কার তার মধ্যে ছিল না। সরাসরি তিনি কেনো দিন রাজনীতি না করলেও প্রগতিশীল রাজনৈতিক ভাবনার মানুষ ছিলেন। তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলেই আমরা আলোকিত হতে পেরেছি। তবে আলোর পরেই বোধহয় অন্ধকার থাকে বলে আমরা আজ অবক্ষয়, অপরাধ, মাদকে নিমজ্জিত। 
 
আবুল বারক আলভী বলেন, ‘তিনি মানুষকে শ্রদ্ধা করতেন, ভালোবাসতেন। জীবদ্দশায় প্রতিটি শিশু সংগঠন, নারী সংগঠনের সঙ্গে থেকে সমাজের জন্য কাজ করে গেছেন। প্রগতিশীল সকল আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন।’ 
 
দিল মনোয়ারা মনু বলেন, ‘কেনো একটি বা অনেকগুলো বিশেষণেও সুফিয়া কামালকে তুলে ধরা সম্ভব নয়। তার সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনীতিক চেতনা, চিন্তা, অঙ্গিকার, আদর্শের গভীরে গেলে তাকে জানা যেতে পারে। তবে এখনও আমরা তাকে সেভাবে তুলে ধরতে পারিনি।’ 
 
বুলবুল মহলানবীশ বলেন, ‘দেখতে ছোট খাটো এই মানুষটির কি তেজস্বিতা ধারণ করতেন তা খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। আমরা তার আদর্শকে সামনে নিয়ে যেন পথ চলি।’
 
ইত্তেফাক/ইউবি
 
এর আগে কচি-কাঁচার সদস্যরা ‘শতাব্দীর বিবেক তুমি’উদ্বোধনী সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে এ আয়োজনের শুরু হয়। আলোচনা পর্বের শেষে ছিল শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক পর্ব। সুফিয়া কামালের ‘আশ্চর্য এমন দিন’, ‘অনেক কথার’ও ‘ফুলকি’ কবিতার আবৃত্তির পাশাপাশি ছিল তার লেখা ‘অনন্ত সূর্যাস্ত অন্তে’ও ‘আমার এ বনের পথে’ গানের পরিবেশনা।
 
ইত্তেফাক/ইউবি