উপজেলা পরিষদ উপ-নির্বাচন

আজমিরীগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে ৪ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে ৪ প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে দুইজন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী রয়েছেন। রবিবার তারা উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. মোর্শেদ আলমের নিকট মনোনয়ন পত্র জমা দেন।
 
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া। বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সাইদুল আমীন চৌধুরী শিরুল মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতর আলীর ছেলে আলাউদ্দিন ও ভাতিজা স্বাধীন মিয়াও মনোনয়ন পত্র জামা দিয়েছেন। এ উপজেলায় ২৬ জুন বাছাই, ৩ জুলাই প্রত্যাহার ও ২৫ জুলাই ভোট গ্রহণ করা হবে।
 
উল্লেখ্য, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতর আলী মিয়া গত ৩০ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। গত ১০ জুন এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এদিকে মনোনয়ন দাখিলের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের ৩ জনের নাম প্রস্তাব করে প্রেরণের জন্য বলেন। এর প্রেক্ষিতে উপজেলা আওয়ামী লীগ ১৮ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদের হলরুমে বর্ধিত সভায় বসে। উপজেলা সভাপতি মিসবাহ উদ্দিন ভূইয়ার সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার আলীর পরিচালনায় সভায় উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতি মিসবাহ উদ্দিন ভূইয়া, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মর্তুজা হাসান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতর আলী মিয়ার ছেলে আল-আমিন ও রানা রায় মনোনয়ন প্রত্যাশা করে নিজেরা প্রার্থী হওয়ার জন্য ঘোষণা দেন। কেউই ছাড় দিতে রাজি হননি। এ সময় মিসবাহ উদ্দিন ভূইয়া এবং আল-আমিনের মাঝে বাক বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে সভায় হট্টগোল শুরু হলে একাধিক ভাগে বিভক্ত হয়ে নেতাকর্মীরা হামলা পাল্টা হামলায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় আল-আমিন মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে তার পক্ষের লোকজন এসে হলরুমে নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। 
 
এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন আল-আমিনের ছোট ভাই আলাউদ্দিন। উক্ত ঘটনায় পুলিশ ১১ জনকে গ্রেফতারও করে। উক্ত মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়াকে। এরপর থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চূড়ান্ত করা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। অবশেষে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মিজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়াকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়।
 
ইত্তেফাক/এমআই